Transliteration: (Wallazeena yutawaf fawna minkum wa yazaroona azwaajanw wasiyyatal li azwaajihim mataa'an ilal hawlighaira ikhraaj; fa in kharajna falaa junaaha 'alaikum fee maa fa'alna feee anfusihinna min ma'roof; wallaahu Azeezun Hakeem)
যারা তোমাদের মধ্যে মারা যাবে এবং স্ত্রী রেখে যাবে, তাদের উচিত যে, তারা তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছরের ভরণ-পোষণের ওয়াসিয়াত করে যাবে [594], তাদেরকে বের করে না দেওয়া পর্যন্ত। তারপর যদি তারা নিজেরাই চলে যায়, তবে তারা নিজেদের ব্যাপারে শরীয়তসিদ্ধ যা কিছু করে, সে জন্য তোমাদের কোনো গুনাহ নেই [595]। আর আল্লাহ মহাপরাক্রমশালী, অতি জ্ঞানী [596][597]।
এই আয়াতে প্রথমে বিধান দেওয়া হয়েছিল—যে ব্যক্তি মারা যায়, সে যেন স্ত্রীর জন্য এক বছরের ভরণ-পোষণ ও বসবাসের ব্যবস্থা করে যায়।
🔹 কিন্তু পরে মীরাছ সংক্রান্ত আয়াত দ্বারা এই বিধান রহিত (নাসখ) হয়ে যায়।
🔹 এখন বিধান হচ্ছে—স্ত্রী তার নির্ধারিত অংশ মীরাছ থেকে পাবে, এবং এক বছরের ভরণ-পোষণের বাধ্যবাধকতা নেই।
সকল মুজতাহিদ একমত যে, এই আয়াতও পরে ইদ্দতের আয়াত দ্বারা রহিত হয়েছে।
🔹 এখন বিধান হলো—স্বামীর মৃত্যুর পর ইদ্দত হলো চার মাস দশ দিন।
🔹 গর্ভবতী হলে সন্তান জন্ম পর্যন্ত।
🔹 অতএব, স্বামীর গৃহে এক বছর থাকার বাধ্যবাধকতা আর প্রযোজ্য নয়।
এই আয়াতে ইঙ্গিত আছে যে, পূর্বে স্ত্রীর জন্য দুটি বিকল্প ছিল—
🔹 স্বামীর গৃহে এক বছর থাকার অধিকার ছিল, অথবা
🔹 স্বেচ্ছায় বেরিয়ে গেলে উত্তরাধিকারীদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যেত।
🔹 যদিও এখন এ বিধান রহিত, তবে তৎকালীন সময়ের স্ত্রীর স্বাধীনতা প্রতিফলিত হয়েছে এতে।
ইদ্দতের সময় শেষ হলে, বা স্ত্রী নিজে থেকে গৃহত্যাগ করলে—
🔹 সে সাজসজ্জা, শোকাবসান, পুনঃবিবাহের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারতো।
🔹 সে সময়েও এক বছরের ভরণ-পোষণ অবশ্য পালনীয় ছিল না, স্ত্রী চাইলে ত্যাগ করতে পারত।
🔹 তবে, যদি গৃহে থেকে যেত, তবে উত্তরাধিকারীদের তা প্রদান করা ওয়াজিব ছিল।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 240 তাফসীর