Transliteration: (Innas Safaa wal-Marwata min sha'aaa'iril laahi faman hajjal Baita awi'tamara falaa junaaha 'alaihi ai yattawwafa bihimaa; wa man tatawwa'a khairan fa innal laaha Shaakirun'Aleem)
নিশ্চয়ই, সাফা ও মারওয়া আল্লাহর নিদর্শনসমূহের অন্তর্ভুক্ত [331]। অতএব, কেউ যদি কাবা ঘরের হজ্ব বা উমরা করে, তবে এ দু’টির মাঝে সাঈ (দৌড়ানো) করলে তার কোনো গোনাহ নেই [332]। আর যে স্বতঃস্ফূর্তভাবে কোনো সৎকাজ করে, তাহলে নিঃসন্দেহে আল্লাহ কৃতজ্ঞ, সর্বজ্ঞ [334]।
সাফা ও মারওয়া—এই দুটি পাহাড় ইসলাম ধর্মে আল্লাহর নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত।
এই মর্যাদা এসেছে হযরত হাজেরা (আঃ)-এর ঐতিহাসিক দৌড়-দৌড়ানির কারণে।
তিনি পুত্র ইসমাঈল (আঃ)-এর জন্য পানি খুঁজতে এই দুটি পাহাড়ের মাঝে সাতবার দৌড়েছিলেন।
এটি ছিল ঈমান, ধৈর্য ও আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থার প্রতীক।
তাঁর এই কর্ম-ই এই পাহাড়দ্বয়কে ইবাদতের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মুসলমানদের জন্য এই নিদর্শনের প্রতি সম্মান দেখানো একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নির্দেশনা।
এই আয়াত জানিয়ে দেয়, সাফা ও মারওয়ার মধ্যে সাঈ করা কোনো গোনাহ নয়, বরং তা একটি ধর্মীয় বাধ্যবাধকতা।
হজ বা উমরায় সাঈ করা ওয়াজিব, অর্থাৎ এটি না করলে হজ বা উমরা পূর্ণ হয় না।
ইসলামের সূচনাকালে কিছু সাহাবী এই দৌড়কে জাহিলি যুগের মূর্তিপূজার অনুরূপ মনে করে সংশয়ে ছিলেন।
এই আয়াত তাদের সংশয় দূর করে এবং বলে দেয় যে, আল্লাহর নিদর্শনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখানো ঈমানের অংশ।
জাহিলি যুগে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ে “আসাফ” ও “নাইলা” নামে দুইটি মূর্তি ছিল, যেগুলোর পূজা হতো।
এই কারণে কিছু সাহাবী সাঈ করতে দ্বিধা বোধ করতেন, কারণ তারা মনে করতেন এটি হয়তো মূর্তিপূজার চিহ্ন বহন করছে।
তখন এই আয়াত নাজিল হয়—যাতে জানিয়ে দেয়া হয়, এখন এই কাজ আল্লাহর জন্য, এবং এটি হজের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
যে কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অতিরিক্ত নেক কাজ করে (যেমন: নফল হজ, নফল উমরা, বা অতিরিক্ত তাওয়াফ),
তাদেরকে আল্লাহ বিশেষভাবে পুরস্কৃত করেন।
আল্লাহ হলেন "শাকির", অর্থাৎ কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী, এবং "আলীম", অর্থাৎ সব কিছু জানেন।
তিনি জানেন, কে কোন নিয়তে কাজ করছে এবং সেই অনুযায়ী পুরস্কৃত করেন।
এটি আল্লাহর রহমত ও ক্ষমাশীলতার প্রতীক।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 158 তাফসীর