কুরআন - 3:134 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

134
ٱلَّذِينَ يُنفِقُونَ فِي ٱلسَّرَّآءِ وَٱلضَّرَّآءِ وَٱلۡكَٰظِمِينَ ٱلۡغَيۡظَ وَٱلۡعَافِينَ عَنِ ٱلنَّاسِۗ وَٱللَّهُ يُحِبُّ ٱلۡمُحۡسِنِينَ

Transliteration: (Allazeena yunfiqoona fissarraaa'i waddarraaa'i wal kaazimeenal ghaiza wal aafeena 'anin-naas; wallaahu yuhibbul muhsineen)

অনুবাদ -

যারা স্বচ্ছলতায় এবং অভাবেও আল্লাহর রাহে খরচ করে [286], এবং যারা রাগ সংবরণ করে ও মানুষকে ক্ষমা করে দেয় [287]। আর আল্লাহ সৎকর্মশীলদের ভালবাসেন [288]।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 134 তাফসীর




📖 সূরা আলে ইমরান - আয়াত 134 এর ব্যাখ্যা

 

✅ [286] সকল অবস্থায় দান করা

এই আয়াতে সেইসব ব্যক্তিদের কথা বলা হয়েছে, যারা স্বচ্ছলতা ও অভাব—উভয় অবস্থায় আল্লাহর পথে ব্যয় করে। উদাহরণস্বরূপ, বিয়ের মতো আনন্দের উপলক্ষে বা কোনো নিয়ামত লাভের সময় শুকরিয়ার স্বরূপ দান করা হয়—এটি স্বচ্ছলতার দান। অপরদিকে, শোকের সময় ইসালে সওয়াবের উদ্দেশ্যে দান করা বা বিপদ-আপদ দূর করার জন্য দান করা হয়—এটি অভাবের দান। দুই ক্ষেত্রেই তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় হিসেবে গণ্য হয়।

✅ [287] ব্যক্তিগত অধিকারে ক্ষমাশীলতা

এখানে রাগ দমন ও ক্ষমা করার কথা বলা হয়েছে, তবে তা ব্যক্তিগত অধিকারের ক্ষেত্রে। ব্যক্তিগত অন্যায় মাফ করা যায়, কিন্তু আল্লাহ ও রাসূল ﷺ-এর অধিকারে হস্তক্ষেপ করা চলে না। যেমন: একজন মুরতাদকে শাস্তি দেওয়া ফরজ, আর চোরের হাত কাটা হলো শরীয়তের হুকুম। এই আয়াতের উদ্দেশ্য হলো ব্যক্তিগত লেনদেন ও পারস্পরিক আচরণে ক্ষমা ও ধৈর্যের শিক্ষা দেওয়া, শরীয়তের হুকুম নয়।

✅ [288] সত্যিকারের ইহসান: খারাপের জবাবে ভালো

ফুযায়েল ইবনে আঈয়াজ (রহঃ) বলেন, ভালোর জবাবে ভালো দেওয়া ন্যায্য, খারাপের জবাবে খারাপ দেওয়া প্রতিশোধ—তবে সত্যিকারের ইহসান হলো খারাপের জবাবে ভালো করা। আর ভালোর জবাবে খারাপ করা সবচেয়ে বড় অনাচার। এই আয়াতে আল্লাহ সেইসব মানুষকে প্রশংসা করেছেন, যারা আঘাতের প্রতিদানে ক্ষমা ও অনুগ্রহ প্রদর্শন করে, এবং তাদেরকে মুহসিনীন—অর্থাৎ সৎকর্মশীল বলেছেন।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now