কুরআন - 3:135 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

135
وَٱلَّذِينَ إِذَا فَعَلُواْ فَٰحِشَةً أَوۡ ظَلَمُوٓاْ أَنفُسَهُمۡ ذَكَرُواْ ٱللَّهَ فَٱسۡتَغۡفَرُواْ لِذُنُوبِهِمۡ وَمَن يَغۡفِرُ ٱلذُّنُوبَ إِلَّا ٱللَّهُ وَلَمۡ يُصِرُّواْ عَلَىٰ مَا فَعَلُواْ وَهُمۡ يَعۡلَمُونَ

Transliteration: (Wallazeena izaa fa'aloo faahishatan aw zalamooo anfusahum zakarul laaha fastaghfaroo lizunoobihim; wa mai yaghfiruz zunooba illal laahu wa lam yusirroo 'alaa maa fa'aloo wa hum ya'lamoon)

অনুবাদ -

আর যারা কোনো অশ্লীলতা করে ফেলে বা নিজেদের প্রতি জুলুম করে ফেলে [289], অতঃপর আল্লাহকে স্মরণ করে এবং নিজেদের গুনাহর জন্য ক্ষমা চায়, আর আল্লাহ ছাড়া কে আছে গুনাহ মাফ করার [290]? এবং তারা জেনে শুনে গোনাহে লিপ্ত থাকে না [291]।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 135 তাফসীর




📖 সূরা আলে ইমরান - আয়াত 135 এর ব্যাখ্যা

 

✅ [289] অশ্লীলতা ও জুলুমের ব্যাখ্যা

এই আয়াতে ‘অশ্লীলতা’ বোঝায় সেই পাপসমূহ যা শরিয়তে স্পষ্টভাবে শাস্তিযোগ্য, যেমন ব্যভিচার ও চুরি। অন্যদিকে ‘নিজেদের প্রতি জুলুম’ বোঝায় এমন গুনাহ যার শাস্তি নির্ধারিত নয়, যেমন নামাজে গাফেল হওয়া। অশ্লীলতা সাধারণত বড় গুনাহকে বোঝায়, আর জুলুম ছোটখাটো অপরাধকে। অশ্লীলতা অনেক সময় অন্যের ক্ষতিসাধনের সাথে যুক্ত, কিন্তু জুলুম নিজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হতে পারে। উভয় ক্ষেত্রেই তাওবা আবশ্যক।

✅ [290] তাওবার দ্বার উন্মুক্ত

এই আয়াতে আল্লাহ তাআলা সব গুনাহগারের জন্য ক্ষমার আহ্বান জানিয়েছেন। যেমন নেককার বান্দা আল্লাহরই, তেমনই গুনাহগারও আল্লাহরই বান্দা। তাঁর দরজা কারো জন্য বন্ধ নয়। যদিও মানুষের হক মাফ করার এখতিয়ার মানুষের আছে, কিন্তু আল্লাহর পক্ষ থেকে মাফ না পেলে তা পূর্ণ হয় না। সুতরাং, আল্লাহ ছাড়া কেউ গুনাহ মাফ করতে পারে না, আর কোনো পাপ এত বড় নয় যা তাওবার দ্বারা মাফ হতে পারে না।

✅ [291] ছোট গুনাহে অব্যাহত থাকা বড় গুনাহে রূপ নেয়

এই অংশে বোঝানো হয়েছে, একই গুনাহ বারবার করা ও তাতে স্থায়ী হয়ে যাওয়া একজনকে বড় গুনাহের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এতে হৃদয় কঠিন হয় এবং তাওবার আগ্রহও নষ্ট হয়ে যায়। সুতরাং, তাওবার জন্য চাই সত্যিকারের অনুতাপ ও ভবিষ্যতে তা না করার দৃঢ় সংকল্প।

✅ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পটভূমি

এই আয়াতের পেছনে দুটি ঘটনা বর্ণিত।
প্রথমত, এক সুন্দরী মহিলা খেজুর জাতীয় মিষ্টি কিনতে এলে দোকানি তাকে ভেতরে নিয়ে গোপনে চুম্বন করে। তখন মহিলা বলল, “আল্লাহকে ভয় করো!” — এতে দোকানি লজ্জিত হয়ে সরে আসে এবং পরে ঘটনাটি নবী ﷺ-কে জানালে এই আয়াত নাজিল হয়।
দ্বিতীয়ত, এক সাহাবী যুদ্ধ করতে গেলে তার বন্ধু তার স্ত্রীর দেখাশোনা করত। একদিন স্ত্রীর অনুরোধে সে মাংস দিতে গেলে তার হাত চুম্বন করে ফেলে এবং সাথে সাথে লজ্জিত হয়ে জঙ্গলে পালিয়ে গিয়ে নিজেকে ধূলায় লুটায়। পরবর্তীতে নবী ﷺ-র নিকট তাকে নিয়ে যাওয়া হলে এই আয়াত অবতীর্ণ হয়।
এই ঘটনাগুলোর শিক্ষা হলো— পাপ হোক ছোট বা বড়, তাওবা ও অনুশোচনা করলে আল্লাহ ক্ষমাশীল।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now