কুরআন - 3:36 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

36
فَلَمَّا وَضَعَتۡهَا قَالَتۡ رَبِّ إِنِّي وَضَعۡتُهَآ أُنثَىٰ وَٱللَّهُ أَعۡلَمُ بِمَا وَضَعَتۡ وَلَيۡسَ ٱلذَّكَرُ كَٱلۡأُنثَىٰۖ وَإِنِّي سَمَّيۡتُهَا مَرۡيَمَ وَإِنِّيٓ أُعِيذُهَا بِكَ وَذُرِّيَّتَهَا مِنَ ٱلشَّيۡطَٰنِ ٱلرَّجِيمِ

Transliteration: (Falammaa wada'at haa qaalat Rabbi innee wada'tuhaaa unsaa wallaahu a'lamu bimaa wada'at wa laisaz zakaru kalunsaa wa innee sammaituhaa Maryama wa innee u'eezuhaa bika wa zurriyyatahaa minash Shaitaanir Rajeem)

অনুবাদ -

অতঃপর যখন সে কন্যাসন্তানের জন্ম দিল, তখন বলল, হে আমার পালনকর্তা! আমি তো একটি মেয়ে জন্ম দিয়েছি [75]। আল্লাহ অধিক জানেন সে কী জন্ম দিয়েছে। আর পুত্র, এই মেয়ের মত নয় [76]। আমি তার নাম রেখেছি মরিয়ম [77] এবং আমি আপনাকে তাঁর ও তাঁর সন্তানদের পক্ষ থেকে বিতাড়িত শয়তানের অনিষ্ট থেকে পানাহ চাইছি [78]।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 36 তাফসীর




📖 সূরা আলে ইমরান - আয়াত ৩৬ এর ব্যাখ্যা

 

✅ [75] হতাশার প্রকাশ, কৃতজ্ঞতার অভাব নয়

হান্নার এই উক্তি হতাশা প্রকাশ করে, অকৃতজ্ঞতা নয়। তিনি দুঃখ পেয়েছিলেন, কারণ মনে করেছিলেন যে, ধর্মসেবায় নিয়োজিত করার মানত পুরুষ সন্তান ছাড়া পূর্ণ হবে না। এজন্য আল্লাহ বললেন, “আল্লাহ ভালো জানেন সে কী জন্ম দিয়েছে”।

✅ [76] এই কন্যা সন্তান ছিল প্রত্যাশিত পুত্রের চেয়েও শ্রেষ্ঠ

যদিও হান্না পুত্র প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু এই কন্যা সন্তান—সাইয়্যিদা মরিয়ম (আঃ) অনেক বেশি মর্যাদাসম্পন্ন ছিলেন। তিনিই হবেন হযরত ঈসা (আঃ)-এর জননী, যিনি হবেন আল্লাহর নিদর্শন। সে সময় মরিয়ম (আঃ) ছিলেন বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ নারী। পরবর্তীতে ইসলামের শ্রেষ্ঠ চার নারী হলেন: সাইয়্যিদা খাদিজা (রা), সাইয়্যিদা আয়েশা (রা), সাইয়্যিদা ফাতিমা (রা) ও সাইয়্যিদা মরিয়ম (আঃ)। এটি প্রমাণ করে, কিছু নারী বহু পুরুষের চেয়েও উত্তম।

✅ [77] তাঁর নাম রাখা হয় মরিয়ম

সাইয়্যিদা মরিয়ম (আঃ) কুরআনে একমাত্র নারীর নাম যিনি সরাসরি উল্লিখিত হয়েছেন। মরিয়ম অর্থ “আনুগত বান্দী”, যা তাঁর জন্য উপযুক্ত, কারণ তিনি বায়তুল মুকাদ্দাসে ইবাদতের জন্য বড় হয়েছিলেন। এখান থেকে বোঝা যায়, মায়েরাও সন্তানের নাম রাখতে পারেন, এবং উত্তম ও অর্থবহ নাম রাখা উচিত।

✅ [78] শয়তানের থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া

হান্না মরিয়ম ও তাঁর সন্তানদের শয়তান থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া করেন। আল্লাহ তাঁর এই দোয়া কবুল করেন এবং মরিয়ম (আঃ) ও ঈসা (আঃ)-কে শয়তানের প্রভাব থেকে নিরাপদ রাখেন—তারা কেউই পাপ করেননি। এটি হান্নার আল্লাহপ্রদত্ত দূরদৃষ্টিও প্রমাণ করে, কারণ তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে, তাঁর কন্যা একদিন মা হবেন, যদিও সে সময় তিনি তা স্পষ্টভাবে চাননি।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now