কুরআন - 3:50 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

50
وَمُصَدِّقٗا لِّمَا بَيۡنَ يَدَيَّ مِنَ ٱلتَّوۡرَىٰةِ وَلِأُحِلَّ لَكُم بَعۡضَ ٱلَّذِي حُرِّمَ عَلَيۡكُمۡۚ وَجِئۡتُكُم بِـَٔايَةٖ مِّن رَّبِّكُمۡ فَٱتَّقُواْ ٱللَّهَ وَأَطِيعُونِ

Transliteration: (Wa musaddiqal limaa baina yadaiya minat Tawraati wa liuhilla lakum ba'dal lazee hurrima 'alaikum; wa ji'tukum bi Aayatim mir Rabbikum fattaqul laaha wa atee'oon)

অনুবাদ -

আর আমি (ঈসা) তোমাদের সামনে তাওরাত (আগ্রবর্তী গ্রন্থ) কে সত্যায়িত করছি, যা আমার পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছিল। এবং আমি তোমাদের জন্য হালাল করছি কিছু বিষয়, যা তোমাদের উপর হারাম ছিল [112]। আর আমি তোমাদের কাছে এসেছি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে এক নিদর্শন নিয়ে। অতএব, তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 50 তাফসীর




📖 সূরা আলে ইমরান – আয়াত ৫০ এর ব্যাখ্যা

 

✅ [112] পূর্ব শরিয়তের বৈধতা ও সংশোধন

হযরত ঈসা (আঃ) নিজে তাওরাতের সত্যতা স্বীকার করেছেন—তিনি তা অস্বীকার করেননি। বরং আল্লাহর আদেশে তিনি কিছু পূর্বের নিষিদ্ধ জিনিসকে হালাল করেন, যেমন:

  • উটের মাংস,
  • কিছু মাছ ও পাখির মাংস,
    যা ইহুদিদের উপর তাওরাতে হারাম করা হয়েছিল।

এ আয়াত থেকে দু’টি মূল শিক্ষা পাওয়া যায়:

  1. তাসদীক (সত্যায়ন) ও নাসখ (বাতিলকরণ) পরস্পর বিরোধী নয়
    ঈসা (আঃ) তাওরাতকে সত্যায়িত করলেও তার কিছু বিধান আল্লাহর হুকুমে বাতিল করেন। এটি প্রমাণ করে যে কোনো পূর্ব শরিয়তের সত্যতা স্বীকার করা মানেই তার প্রতিটি হুকুম মানতে বাধ্য থাকা নয়—আল্লাহ চাইলে পরে তা পরিবর্তন করতে পারেন।
  2. নবীগণ আল্লাহর নির্দেশে হালাল-হারাম নির্ধারণ করতে পারেন
    যেমন হযরত ঈসা (আঃ) বলেন: “আমি তোমাদের জন্য হালাল করি…”
    এটি প্রমাণ করে যে নবীদের মাধ্যমে হালাল-হারামের বিধান আসতে পারে, তবে তা আল্লাহর পক্ষ থেকেই হয়।

👉 এই আয়াত ইঙ্গিত করে যে প্রত্যেক নবীর শরিয়তের মধ্যে পূর্ব শরিয়তের কিছু অংশ অব্যাহত থাকে, আর কিছু বিধান বাতিল ও পরিবর্তিত হয়—যা শুধুমাত্র আল্লাহর হুকুমে হয়।
👉 এবং এই পরিবর্তন কোনো ত্রুটির কারণে নয়, বরং নতুন পরিস্থিতি ও জাতির প্রয়োজন অনুযায়ী হয়।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now