Transliteration: (Sayaqoolus sufahaaa'u minan naasi maa wallaahum 'an Qiblatihimul latee kaanoo 'alaihaa; qul lillaahil mashriqu walmaghrib; yahdee mai yashaaa'u ilaa Siraatim Mustaqeem)
মূর্খরা মানুষেরা বলবে [285] : কী কারণে তাদেরকে সেই কিবলা থেকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে [286], যার দিকে তারা পূর্বে মুখ ফিরিয়ে থাকত? বলুন (হে মুহাম্মদ): পূর্ব ও পশ্চিম তো আল্লাহরই মালিকানা [288]; তিনি যাকে ইচ্ছা সরল পথে পরিচালিত করেন।
এই আয়াতে ইহুদী, মূর্তিপূজক এবং মুনাফিকদের কথা বলা হয়েছে, যারা নবী করিম ﷺ কে বিদ্রূপ করত এবং কিবলা পরিবর্তনের ওপর আপত্তি তুলত। তারা এই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত পরিবর্তন মেনে নিতে প্রস্তুত ছিল না। তাওরাত ও পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে এই ভবিষ্যদ্বাণী ছিল যে, শেষ নবী হবেন দুই কিবলার নবী।
📌 সুতরাং কিবলার পরিবর্তন নবুওতের প্রমাণ, সন্দেহের কারণ নয়। তবুও এই হিংসাপূর্ণ আপত্তিকারীরা নবীর মিশনকে দুর্বল করার চেষ্টা করত।
গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক বিষয়সমূহ: হজরত আদম (আঃ) থেকে হজরত মূসা (আঃ) পর্যন্ত কা’বা ছিল মূল কিবলা। মূসা (আঃ) থেকে ঈসা (আঃ) পর্যন্ত কিবলা ছিল বাইতুল মুকাদ্দাস।
ইসলামের প্রারম্ভে মুসলিমরা জেরুজালেমের দিকে মুখ করে নামাজ পড়তেন, কিন্তু পরে কা’বার দিকে মুখ করার আদেশ আসে:
📆 হিজরতের প্রায় ১৭ মাস পর, ২য় হিজরির রমজানের ২৫ তারিখ, যোহরের সময় মসজিদে ক্বিবলাতাইনে এই নির্দেশ আসে।
আল্লাহ এই আপত্তিকে তুলে ধরেছেন, যাতে আপত্তিকারীদের সংকীর্ণতা প্রকাশ পায়, এবং বোঝা যায় যে, এইসব যুক্তি দেখানো আসলে মূর্খতার নামান্তর।
ইহুদীরা এই দিক পরিবর্তনে আপত্তি তোলে এবং এর মাধ্যমে নবী ﷺ ও ইসলামের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
📌 এখান থেকে আমরা বুঝতে পারি: যারা আল্লাহর হুকুম বুঝে না এবং অপ্রয়োজনীয় আপত্তি তোলে, তারা প্রকৃতপক্ষে মূর্খ — যদিও তারা দুনিয়াবি জ্ঞানে পারদর্শী হতে পারে।
মুসলিমদের জবাব ছিল সম্মানজনক এবং তাওহীদের চেতনায় পূর্ণ: আমরা পূর্ব বা পশ্চিমকে উপাস্য বানাই না, বরং আল্লাহর আদেশ মেনে চলি।
মূল বিষয়: নামাজের দিক নির্ধারণের উদ্দেশ্য ভৌগোলিক নয়, বরং আনুগত্য।
আল্লাহ, যার জন্য পূর্ব ও পশ্চিম — তিনিই যার যেদিকে ইচ্ছা, কিবলা বানাতে পারেন।
📌 প্রকৃত সরল পথ হলো — আল্লাহ যেদিকে মুখ করতে বলেন, তাঁর আদেশ অনুযায়ী চলা।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 142 তাফসীর