কুরআন - 2:140 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

140
أَمۡ تَقُولُونَ إِنَّ إِبۡرَٰهِـۧمَ وَإِسۡمَٰعِيلَ وَإِسۡحَٰقَ وَيَعۡقُوبَ وَٱلۡأَسۡبَاطَ كَانُواْ هُودًا أَوۡ نَصَٰرَىٰۗ قُلۡ ءَأَنتُمۡ أَعۡلَمُ أَمِ ٱللَّهُۗ وَمَنۡ أَظۡلَمُ مِمَّن كَتَمَ شَهَٰدَةً عِندَهُۥ مِنَ ٱللَّهِۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَٰفِلٍ عَمَّا تَعۡمَلُونَ

Transliteration: (Am taqooloona inna Ibraaheema wa Ismaa'eela wa Ishaaqa wa Ya'qooba wal asbaata kaanoo Hoodan aw Nasaaraa; qul 'a-antum a'lamu amil laah; wa man azlamu mimman katama shahaadatan 'indahoo minallaah; wa mallaahu bighaafilin 'ammaa ta'maloon)

অনুবাদ -

তোমরা কি বলো যে, ইবরাহিম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব এবং তাদের বংশধরেরা ছিলেন ইয়াহূদী বা খ্রিষ্টান? বলুন (হে মুহাম্মদ!): ‘তোমরাই কি বেশি জ্ঞানী, না আল্লাহ?’ আর কে হতে পারে তার চেয়ে বড় জালিম, যে এমন সাক্ষ্য গোপন করে যা তার কাছে আল্লাহর পক্ষ থেকে আছে? নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের কাজকর্ম সম্পর্কে গাফিল নন।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 140 তাফসীর




📖 সূরা আল-বাকারা - আয়াত [140] এর ব্যাখ্যা

 

✅ [281] ইয়াহূদী ও খ্রিষ্টানদের মিথ্যা দাবি খণ্ডন

ইয়াহূদীরা দাবি করত যে হযরত ইবরাহিম (আঃ) ছিলেন ইহুদি, আর খ্রিষ্টানরা বলত তিনি ছিলেন খ্রিষ্টান।
📌 এই আয়াত স্পষ্টভাবে এই দাবিগুলো খণ্ডন করেছে, কারণ:

  • ইহুদীবাদ ও খ্রিষ্টান ধর্ম ইবরাহিম (আঃ)-এর বহু পরে এসেছে
  • তাই, ইতিহাস ও সত্য উভয়ের দৃষ্টিকোণ থেকেই, তাদের এমন দাবি মিথ্যা ও প্রতারণাপূর্ণ

✅ [282] নবীদের সমর্থন করা আল্লাহর পথ

এই আয়াত থেকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি শিখি:

  • মিথ্যা বিশ্বাস খণ্ডন করা এবং নবীদের পক্ষে অবস্থান নেওয়া – এটি আল্লাহর পথ
  • পক্ষান্তরে, নবীদের অপবাদ দেয়া বা তাদের সম্পর্কে মিথ্যা প্রচার করা – এটি কুফরের রীতি

📌 যারা নবীদের সম্মান করে ও রক্ষা করে, তারা সত্য ও হিদায়াতের পথে থাকে, আর যারা তাঁদের ছোট করে, তারা শয়তানের প্ররোচণায় চলে।

✅ [283] আল্লাহর সাক্ষ্য গোপন করা মহাপাপ

আয়াতের শেষাংশে গুরুতর একটি অপরাধের কথা বলা হয়েছে—আল্লাহর পক্ষ থেকে পাওয়া সাক্ষ্য গোপন করা।

বিশেষতঃ:

  • ইহুদীরা জানত যে মুহাম্মদ ﷺ-ই সত্য নবী, কারণ তারা তাওরাতে তাঁর বর্ণনা পেয়েছিল
  • কিন্তু তারা সেই সত্য ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন ও বিকৃত করেছে

📌 গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা:

  • ধর্মীয় সত্য গোপন করা জুলুম ও কুফর
  • যেমন: রমজানের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য – তা গোপন করা হারাম
  • কিন্তু কোনো মুসলিমের স্বার্থ রক্ষার জন্য কৌশলগতভাবে কিছু গোপন রাখা বৈধ
  • অন্যের হক নষ্ট হয় এমন কিছু গোপন করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ

🔊 এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়—সত্যকে সাহসিকতার সাথে প্রচার করা ঈমানদারের দায়িত্ব।
যেমন: মুয়াজ্জিন যখন বলে – ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ ﷺ আল্লাহর রাসূল’,
— এটা কোনো আপত্তিকর কথা নয়, বরং আল্লাহর আদেশ মোতাবেক প্রকাশ্য সাক্ষ্য।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now