Transliteration: (Wa min haisu kharajta fawalli wajhaka shatral Masjidil Haraam; wa haisu maa kuntum fawalloo wujoohakum shatrahoo li'allaa yakoona linnaasi 'alaikum hujjatun illal lazeena zalamoo minhum falaa takhshawhum wakhshawnee wa liutimma ni'matee 'alaikum wa la'allakum tahtadoon)
আর আপনি (হে মুহাম্মদ) যেখান থেকেই বের হন, আপনার মুখ পবিত্র মসজিদের দিকে ফেরান [314]। আর তোমরা (বিশ্বাসীরা) যেখানেই থাকো, তোমাদের মুখ তার দিকেই ফেরাও, যাতে লোকেরা তোমাদের বিরুদ্ধে কোন যুক্তি পেশ করতে না পারে [315]; তবে তাদের মধ্যে যারা জুলুম করে তারা ব্যতিক্রম [316]। সুতরাং তাদেরকে ভয় করো না, বরং আমাকে ভয় করো। আমি যাতে তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ পূর্ণ করতে পারি এবং যাতে তোমরা সৎপথে চলতে পারো [317]।
"তুমি যেখান থেকেই বের হও" — এই বাক্যটি তিনটি প্রসঙ্গে বোঝা যায়:
সময়ভিত্তিক ব্যাখ্যা: হে প্রিয় নবী ﷺ, আপনি যখনই বের হন, তখনই কা'বার দিকে মুখ ফেরান। এটি বোঝায়, কেবল বিশেষ সময়ে নয়, সবসময়ই কিবলার দিকে মুখ করা বাধ্যতামূলক।
স্থানভিত্তিক ব্যাখ্যা: পূর্বের আয়াতটি সম্ভবত মদীনার ভিতরের অবস্থানকে নির্দেশ করে, আর এই আয়াতটি মদীনার বাইরের স্থানগুলো— মরুভূমি, জঙ্গল বা সফরের সময়— সব জায়গাকেই অন্তর্ভুক্ত করে।
শ্রোতাভিত্তিক ব্যাখ্যা: পূর্বের আয়াত ছিল নবী করীম ﷺ-কে লক্ষ্য করে, আর এই আয়াতটি সমগ্র মুসলিম উম্মাহকে নির্দেশ দিচ্ছে যে তারা যেখানে থাকুক, কা'বার দিকেই মুখ ফিরিয়ে নামায আদায় করবে।
📌 এই ব্যাখ্যাগুলো পরস্পরের পরিপূরক, কোনো দ্বন্দ্ব নেই।
এই নির্দেশ আসার পূর্বে মক্কার মুশরিকরা বলত:
“মুহাম্মদ যদি ইব্রাহীম (আঃ)-এর ধর্মে থাকেন, তবে কেন তিনি সেই কা'বার দিকে মুখ করেন না, যা ইব্রাহীম (আঃ) নির্মাণ করেছিলেন?”
এই আয়াত সেই অভিযোগ খণ্ডন করে দিয়েছে:
✅ এখন মুসলমানরা কা'বার দিকেই মুখ করে নামায পড়ে, ফলে তাদের অভিযোগের কোনো ভিত্তি থাকল না।
সত্য স্পষ্ট হওয়ার পরও কিছু লোক উপহাস ও কটুক্তি করবেই।
✅ এসব “জালিম” ব্যক্তিদের কথা গুরুত্বহীন, কারণ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে সত্য অস্বীকার করে।
🛡️ শিক্ষা: দ্বীনের ব্যাপারে লোকের কথায় কান না দিয়ে সুন্নাহর উপর অবিচল থাকা দরকার।
✅ যে ব্যক্তি একটি ভুলে যাওয়া সুন্নাহ পুনরুজ্জীবিত করে, সে ১০০ শহীদের সাওয়াব পায়, কারণ সে অব্যাহত বিরোধিতা সহ্য করেও সত্য পথে অটল থাকে।
বায়তুল মুকাদ্দাস থেকে কা'বা শরীফে কিবলা পরিবর্তন কোনো বোঝা নয়, বরং ছিল:
✅ আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ ও সম্মান মুসলিম উম্মাহর প্রতি।
📌 পূর্ববর্তী জাতির ছিল একটি কিবলা
📌 এই উম্মাহর জন্য ছিল দুটি কিবলা:
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 150 তাফসীর