Transliteration: (Yaaa ayyuhal lazeena aamanoo kutiba alaikumul qisaasu fil qatlaa alhurru bilhurri wal'abdu bil'abdi wal unsaa bil unsaa; faman 'ufiya lahoo min akheehi shai'un fattibaa'um bilma'roofi wa adaaa'un ilaihi bi ihsaan; zaalika takhfeefum mir rabikum wa rahmah; famani' tadaa ba'da zaalika falahoo 'azaabun aleem)
হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর হত্যার বদলা কিসাস (আইনি প্রতিশোধ) নির্ধারিত করা হয়েছে [387]—স্বাধীন ব্যক্তির জন্য স্বাধীন ব্যক্তি, দাসের জন্য দাস, এবং নারীর জন্য নারী [388]। তবে যদি কোনো ভাই (ওয়ারিস) হত্যাকারীকে ক্ষমা করে [389], তবে অবশ্যই একটি ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ভালভাবে আদায় করতে হবে। এটি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একটি ছাড় এবং রহমত [390]। এরপর কেউ সীমালঙ্ঘন করলে [391], তার জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
কিসাস অর্থাৎ হত্যার প্রতিশোধ ইসলামে নির্ধারিত করা হয়েছে। এই বিধান অনুযায়ী, স্বাধীন ব্যক্তি হত্যার জন্য স্বাধীন ব্যক্তি, দাসের জন্য দাস এবং নারীর জন্য নারীকে শাস্তি দেওয়া হবে। এতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় এবং সকল স্তরের মানুষের রক্তের মূল্য সমান বিবেচিত হয়।
নবী ﷺ ব্যতিক্রম: রাসূলুল্লাহ ﷺ এই বিধানের আওতাভুক্ত নন, কারণ তিনি আল্লাহর রাসূল এবং তাঁর মর্যাদা আলাদা। কুরআনে উল্লেখ আছে, তাঁর সামনে কণ্ঠ উচ্চ করা এবং সীমা লঙ্ঘন করা নিষিদ্ধ (সূরা হুজুরাত ৪৯:১-২)।
এই আয়াত স্পষ্ট করে দেয় যে, হত্যাকারী স্বাধীন হোক বা দাস, পুরুষ হোক বা নারী—তাদের বিরুদ্ধে সমান শাস্তির বিধান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, একজন নারী যদি পুরুষকে হত্যা করে, তবে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে।
অমুসলিম হেফাজতে থাকা হলে: যদি একজন মুসলিম নিরাপত্তার অধীনে থাকা কোনো অমুসলিমকে হত্যা করে, তাহলে তাকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। নবী ﷺ বলেছেন, হেফাজতের অধীনে থাকা অমুসলিমদের রক্তও মুসলিমদের রক্তের মতোই সম্মানিত।
ক্ষমার বিধান: হত্যার ঘটনার ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিস চাইলে হত্যাকারীকে ক্ষমা করতে পারেন এবং প্রতিশোধের বদলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করতে পারেন। ইসলামে এ ধরনের ক্ষমাকে প্রশংসনীয় বলা হয়েছে।
ব্যতিক্রম: যদি পিতা পুত্রকে বা মালিক দাসকে হত্যা করে, সেখানে কিসাস প্রযোজ্য হয় না।
ক্ষমা আল্লাহর পক্ষ থেকে রহমত: প্রতিশোধ নেওয়ার পরিবর্তে ক্ষমা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি রহমত। এই বিধান সমাজে শান্তি ও সহনশীলতা সৃষ্টি করে।
উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ: ক্ষমা করলে নিহত ব্যক্তির ওয়ারিস যেন সম্মানের সাথে উপযুক্ত অর্থ পায়, তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য।
সীমালঙ্ঘন মানে হল, প্রতিশোধে অতিরিক্ত কিছু করা—যেমন, হত্যাকারীকে নির্যাতন করা, অঙ্গহানি করা ইত্যাদি। ইসলামে প্রতিশোধ হতে হবে ন্যায্য ও সীমিত, অপরাধের মাত্রা অতিক্রম করা যাবে না। সীমালঙ্ঘন করলে দণ্ড হবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 178 তাফসীর