Transliteration: (Kutiba 'alaikum izaa hadara ahadakumul mawtu in taraka khairanil wasiyyatu lilwaalidaini wal aqrabeena bilma'roofi haqqan 'alalmut taqeen)
তোমাদের ওপর ফরজ করা হয়েছে [393] যে, যখন তোমাদের কারো নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় এবং সে যদি সম্পদ [394] রেখে যায়, তাহলে সে যেন তার পিতা-মাতা ও নিকট আত্মীয়দের জন্য প্রথা অনুযায়ী অসিয়ত করে যায়। এটি তাদের জন্য অবশ্য কর্তব্য, যারা আল্লাহকে ভয় করে [395]।
ইসলাম-পূর্ব প্রথা:
ইসলামী উত্তরাধিকার আইন নাজিল হওয়ার আগে, মৃত্যুর সময় নিজের সম্পদ কিভাবে বণ্টন হবে তা নির্ধারণ করার জন্য অসিয়ত করা ফরজ ছিল। এতে ব্যক্তি নিজের পিতা-মাতা ও আত্মীয়দের জন্য সম্পদের বণ্টন নির্ধারণ করতেন।
উত্তরাধিকার আইনের আগমন:
পরে কুরআনের উত্তরাধিকার আইন নাজিল হওয়ার পর, উত্তরাধিকারীদের জন্য অসিয়ত করার বাধ্যবাধকতা রহিত করা হয়। এখন সম্পদ বণ্টনের নির্দিষ্ট নিয়ম কুরআনে নির্ধারিত, যা ন্যায়ের ভিত্তিতে সম্পদের বণ্টন নিশ্চিত করে।
অতএব, উত্তরাধিকারীদের জন্য অসিয়ত করা এখন আর ফরজ নয়।
এই আয়াতে “সম্পদ” বলতে ব্যক্তির নিজস্ব মালিকানাধীন সম্পদ বোঝানো হয়েছে। এটি অন্য কারো সম্পদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। অসিয়ত কেবলমাত্র মৃত্যুকালে তার নিজের মালিকানাধীন সম্পদের ক্ষেত্রেই করতে হবে।
এই আয়াতে অসিয়ত করার নির্দেশ আল্লাহকে ভয়কারী ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে ছিল। উত্তরাধিকার আইন নাজিলের পর উত্তরাধিকারীদের জন্য অসিয়তের প্রয়োজনীয়তা উঠে গেছে, তবে অসিয়ত এখনো বৈধ, যদি তা উত্তরাধিকার-বহির্ভূত বিষয়, যেমন: দান, ওয়াকফ বা অন্য কারো উপকারে হয়।
আয়াত রহিত হওয়ার বিষয়:
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, একটি কুরআনিক আয়াত হাদীস দ্বারা রহিত হতে পারে, কারণ এই আয়াতের বিধানকে রহিত করেছে একটি প্রসিদ্ধ হাদীস:
"উত্তরাধিকারীর জন্য কোনো অসিয়ত নেই।"
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 180 তাফসীর