Transliteration: (Uhilla lakum laylatas Siyaamir rafasu ilaa nisaaa'ikum; hunna libaasullakum wa antum libaasullahunn; 'alimal laahu annakum kuntum takhtaanoona anfusakum fataaba 'alaikum wa 'afaa 'ankum fal'aana baashiroo hunna wabtaghoo maa katabal laahoo lakum; wa kuloo washraboo hattaa yatabaiyana lakumul khaitul abyadu minal khaitil aswadi minal fajri summa atimmus Siyaama ilal layl; wa laa tubaashiroo hunna wa antum 'aakifoona fil masaajid; tilka hudoodul laahi falaa taqraboohaa; kazaalika yubaiyinul laahu aayaatihee linnaasi la'allahum yattaqoon)
রমযানের রোজা শুরু হওয়ার আগের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীর সাথে সহবাস হালাল করা হয়েছে [419]। তারা তোমাদের জন্য পোষাক এবং তোমরাও তাদের জন্য পোষাক। আল্লাহ জানেন যে, তোমরা নিজেদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলে [420]। তিনি তোমাদের তওবা কবুল করেছেন এবং তোমাদের ক্ষমা করেছেন [421]। অতএব এখন তোমরা তাদের সাথে মিলিত হও এবং যা আল্লাহ তোমাদের জন্য নির্ধারণ করেছেন তা কামনা করো [422]। এবং খাও ও পান করো [423], যতক্ষণ না ফজরের সাদা সুতা কালো সুতার থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। তারপর রোযা পূর্ণ করো রাত পর্যন্ত [424]। কিন্তু তোমরা যখন মসজিদে ই‘তিকাফে থাক, তখন স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না [425]। এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা — এগুলোতে অগ্রসর হইও না। এভাবেই আল্লাহ তাঁর আয়াতসমূহ প্রকাশ করেন যেন মানুষ পরহেযগার হয়।
রাত্রিকালীন সম্পর্ক হালাল: রমযানের রাতে, ফজরের আগ পর্যন্ত স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সহবাস বৈধ করা হয়েছে। পূর্বে কিছু সাহাবী নিজেদের উপর কঠোরতা আরোপ করেছিলেন, তখন এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ স্পষ্টভাবে বৈধতা ঘোষণা করেন।
নিজেদের প্রতারণা: কিছু সাহাবী ভেবেছিলেন রমযানের রাতে সহবাস নিষিদ্ধ, ফলে তারা গোপনে তা করতেন। এই আয়াতে আল্লাহ জানান যে, তিনি তাদের এই প্রবণতা সম্পর্কে জানেন, এবং তা ক্ষমা করে দিয়েছেন।
তওবা কবুল: যারা অজান্তে বা ভুল বুঝে রাত্রিকালীন সহবাস পরিহার করতেন বা গোপনে করতেন — তাদের তওবা আল্লাহ কবুল করেছেন এবং তিনি তাদের ক্ষমা করেছেন।
নির্ধারিত রিযিক ও সন্তানের অন্বেষণ: এই আয়াতে উৎসাহ দেয়া হয়েছে বৈধ দাম্পত্য জীবনের উপরে। সহবাসের মাধ্যমে আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন — যেমন: সন্তান, রিযিক ইত্যাদি — তা কামনা করতে বলা হয়েছে।
খাওয়া-পানার অনুমতি: রমযানের রাতে ফজরের সাদা রেখা (আলো) ও কালো রেখা (আঁধার) পৃথক হওয়া পর্যন্ত খাওয়া ও পান করা বৈধ। এটিই রোযার শুরু।
রাত পর্যন্ত রোযা পালন: ফজর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পূর্ণ রোযা পালন করতে হবে। সূর্যাস্তের পূর্বে রোযা ভঙ্গ করলে তা পূর্ণ হবে না। পূর্ণতা বজায় রাখাই ইবাদতের উদ্দেশ্য।
ই‘তিকাফের সময় সংযম: রমযানের শেষ দশকে মসজিদে ই‘তিকাফ করার সময় স্ত্রীদের সাথে সহবাস নিষিদ্ধ। কারণ, এটি ইবাদতের সময় — মনোযোগ সম্পূর্ণ আল্লাহর দিকে নিবদ্ধ রাখা জরুরি।
আল্লাহর সীমা ও পরহেযগারতা: আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম না করাই পরহেযগারদের বৈশিষ্ট্য। যারা এই সীমা মানে, তারা প্রকৃত মুমিন ও তাকওয়াদার।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 187 তাফসীর