কুরআন - 2:190 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

190
وَقَٰتِلُواْ فِي سَبِيلِ ٱللَّهِ ٱلَّذِينَ يُقَٰتِلُونَكُمۡ وَلَا تَعۡتَدُوٓاْۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَا يُحِبُّ ٱلۡمُعۡتَدِينَ

Transliteration: (Wa qaatiloo fee sabeelillaahil lazeena yuqaatiloonakum wa laa ta'tadooo; innal laaha laa yuhibbul mu'tadeen)

অনুবাদ -

আর তোমরা আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো তাদের বিরুদ্ধে যারা তোমাদের সঙ্গে যুদ্ধ করে [433], কিন্তু সীমালঙ্ঘন করো না [434]। নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 190 তাফসীর




📖 আল-বাকারা – আয়াত ১৯০ এর তাফসীর

 

✅ [433] যুদ্ধের নির্দেশ

আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধ: এই আয়াত স্পষ্টভাবে বলছে যে যুদ্ধ কেবলমাত্র তাদের বিরুদ্ধেই করা যাবে, যারা মুসলিমদের উপর আক্রমণ করে অথবা যুদ্ধের প্রস্তুতি নেয়।

  • এই নির্দেশ আত্মরক্ষার জন্য বাধ্যতামূলক এবং এটি বাতিল হয়নি, বরং প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে প্রযোজ্য।
    যুদ্ধের সীমাবদ্ধতা:
  • যুদ্ধ শুধু যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে, যারা সক্রিয়ভাবে যুদ্ধে অংশ নেয়।
  • নারী, শিশু, বৃদ্ধ, সাধুজন, পুরোহিত বা যারা যুদ্ধ করে না—তাদেরকে হত্যা করা হারাম।
    এই আয়াত ইসলামী যুদ্ধনীতির নৈতিক সীমা নির্ধারণ করে।

✅ [434] সীমালঙ্ঘনের নিষেধাজ্ঞা

যুদ্ধে সীমালঙ্ঘন: আত্মরক্ষার অনুমতি থাকলেও, অন্যায়ভাবে সীমা অতিক্রম করা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এই সীমালঙ্ঘন হতে পারে নিম্নরূপ:

  • যাদের হত্যা নিষিদ্ধ (নিরপরাধ, নিরস্ত্র, অসামরিক ব্যক্তি) তাদের হত্যা করা।
  • চুক্তি ভঙ্গ করা, অর্থাৎ যাদের সঙ্গে সন্ধি বা শান্তিচুক্তি হয়েছে, তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা।
  • ইসলামের দাওয়াত ছাড়াই যুদ্ধ শুরু করা, অর্থাৎ আগে শান্তির আহ্বান না করে আক্রমণ করা।
    আল্লাহর অসন্তুষ্টি: যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে—তাদের প্রতি আল্লাহর ভালোবাসা নেই।
  • চুক্তি ভঙ্গ, মিথ্যা অজুহাতে যুদ্ধ, নিরপরাধকে হত্যা — সবই আল্লাহর কাছে গুরুতর গুনাহ।

এই আয়াতটি ইসলামে ন্যায়ভিত্তিক যুদ্ধনীতির মূলনীতি উপস্থাপন করে — আত্মরক্ষা করা ফরজ, কিন্তু অন্যায়ের জবাবে অন্যায় করা নিষিদ্ধ।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now