কুরআন - 2:191 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

191
وَٱقۡتُلُوهُمۡ حَيۡثُ ثَقِفۡتُمُوهُمۡ وَأَخۡرِجُوهُم مِّنۡ حَيۡثُ أَخۡرَجُوكُمۡۚ وَٱلۡفِتۡنَةُ أَشَدُّ مِنَ ٱلۡقَتۡلِۚ وَلَا تُقَٰتِلُوهُمۡ عِندَ ٱلۡمَسۡجِدِ ٱلۡحَرَامِ حَتَّىٰ يُقَٰتِلُوكُمۡ فِيهِۖ فَإِن قَٰتَلُوكُمۡ فَٱقۡتُلُوهُمۡۗ كَذَٰلِكَ جَزَآءُ ٱلۡكَٰفِرِينَ

Transliteration: (Waqtuloohum haisu saqif tumoohum wa akhrijoohum min haisu akhrajookum; walfitnatu ashaddu minal qatl; wa laa tuqaatiloohum 'indal Masjidil Haraami hattaa yaqaatilookum feehi fa in qaatalookum faqtuloohum; kazaalika jazaaa'ul kaafireen)

অনুবাদ -

আর তোমরা তাদের হত্যা করো যেখানে তাদের পাও, এবং তাদের বহিষ্কার করো যেখান থেকে তারা তোমাদের বহিষ্কার করেছিল; আর ফিতনা [437] হত্যার চেয়েও ভয়ানক। তবে মসজিদুল হারামের নিকটে তাদের সঙ্গে যুদ্ধ করো না, যতক্ষণ না তারা তোমাদের সঙ্গে সেখানে যুদ্ধ করে। কিন্তু যদি তারা আক্রমণ করে, তবে তাদের হত্যা করো। কাফিরদের প্রতিফল এটাই।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 191 তাফসীর




📖 আল-বাকারা – আয়াত ১৯১ এর তাফসীর

 

✅ [435] আত্মরক্ষামূলক যুদ্ধের অধিকার

যুদ্ধ ও প্রতিরোধের অনুমতি:
এই আয়াতে তাদের হত্যা করতে বলা হয়েছে, যারা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে, তাদের দীন ও দেশ থেকে বের করে দেয়।

  • এটি আত্মরক্ষামূলক প্রতিশোধের অনুমতি দেয়, বিশেষত সেইসব কাফিরদের বিরুদ্ধে যারা অত্যাচার করে মুসলিমদের নিজেদের ভূমি থেকে বহিষ্কার করে।
    ব্যক্তিগত বনাম জাতিগত শত্রুতা:
  • ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে ক্ষমাশীলতা প্রশংসনীয়।
  • কিন্তু জাতি ও দ্বীনের বিরুদ্ধে যারা শত্রুতা করে, তাদের প্রতি বিচার ও প্রতিশোধ গ্রহণ জরুরি।
  • তাদের ক্ষমা করা হলে, তা পুরো মুসলিম উম্মাহর ধ্বংসের কারণ হতে পারে।

✅ [436] পবিত্র ভূমি থেকে বহিষ্কারের বিধান

মক্কা থেকে কাফিরদের বহিষ্কার:

  • এখানে মক্কাকে বোঝানো হয়েছে।
  • যেসব কাফির ইসলাম গ্রহণ করেনি, তাদের হয় হত্যা করা হয়েছে (যেমন: ইবনে খাতাল), কিংবা তারা পালিয়ে গেছে (যেমন: হযরত আক্রামা রা. — পরে ইসলাম গ্রহণ করেন)।
    হাদীসের নির্দেশনা:
  • হাদীসে এসেছে যে, ইয়াহুদ ও খ্রিষ্টানদের হিজাজ (মক্কা-মদিনাসহ) থেকে বহিষ্কার করতে হবে।
  • এই অঞ্চল শুধু মুসলিমদের বসবাসের জন্য নির্ধারিত।

✅ [437] মসজিদুল হারাম ও এর সীমার পবিত্রতা

হারাম শরীফের মর্যাদা:

  • মসজিদুল হারাম বলতে কা‘বা শরীফ ও তার আশপাশের নির্ধারিত এলাকা বোঝায়।
  • এই হারাম অঞ্চলে যুদ্ধ শুরু করা নিষিদ্ধ।
    সীমার মর্যাদা রক্ষা:
  • কেউ যদি অপরাধ করেও এই পবিত্র অঞ্চলে আশ্রয় নেয়, তাকে সেখানেই শাস্তি দেওয়া হয় না।
  • যুদ্ধ করতে হলে, সেটি এই সীমার বাইরে করতে হবে, যতক্ষণ না শত্রু নিজেরাই সেখানে আক্রমণ করে।

এই আয়াত যুদ্ধ, প্রতিরোধ এবং হারাম শরীফের পবিত্রতা রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ বিধান নিয়ে এসেছে—যেখানে ইসলামের ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রতিফলিত হয়: অন্যায়ের প্রতিকারে সাহসী হও, কিন্তু পবিত্রতা ও সীমারক্ষা সবসময় আগে।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now