কুরআন - 2:197 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

197
ٱلۡحَجُّ أَشۡهُرٞ مَّعۡلُومَٰتٞۚ فَمَن فَرَضَ فِيهِنَّ ٱلۡحَجَّ فَلَا رَفَثَ وَلَا فُسُوقَ وَلَا جِدَالَ فِي ٱلۡحَجِّۗ وَمَا تَفۡعَلُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يَعۡلَمۡهُ ٱللَّهُۗ وَتَزَوَّدُواْ فَإِنَّ خَيۡرَ ٱلزَّادِ ٱلتَّقۡوَىٰۖ وَٱتَّقُونِ يَـٰٓأُوْلِي ٱلۡأَلۡبَٰبِ

Transliteration: (Al-Hajju ashhurum ma'-loomaat; faman farada feehinnal hajja falaa rafasa wa laa fusooqa wa laa jidaala fil Hajj; wa maa taf'aloo min khairiny ya'lamhul laah; wa tazawwadoo fa inna khairaz zaadit taqwaa; wattaqooni yaaa ulil albaab)

অনুবাদ -

হজ্ব নির্ধারিত কয়েকটি মাসে হয় [৪৫৮]। অতঃপর যে ব্যক্তি ঐ মাসগুলিতে হজ্ব আরম্ভ করল [৪৫৯], তার জন্য হজ্বের সময় যৌনাচার, পাপকাজ ও ঝগড়াঝাটি করা বৈধ নয় [৪৬০]। আর তোমরা যা কিছু ভাল কাজ কর, আল্লাহ তা জানেন। এবং তোমরা হজ্বের জন্য পাথেয় সঙ্গে নাও [৪৬১]। নিশ্চয়ই শ্রেষ্ঠ পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া [৪৬২]। আর হে বোধসম্পন্ন লোকেরা! তোমরা আমার ভয় রাখো [৪৬৩]।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 197 তাফসীর




আল-বাকারা – আয়াত ১৯৭ এর তাফসীর

 

✅ [৪৫৮] হজের নির্ধারিত মাসসমূহ

হজের মাসসমূহ: হজ পালনের নির্ধারিত মাস হলো শাওয়াল, জিলক্বদ ও জিলহজ্জের প্রথম দশ দিন। এই মাসগুলিকে গুরুত্বপূর্ণ বলা হয়েছে কারণ এই সময়েই ইহরাম বাঁধা বৈধ হয় এবং হজ্বে তামাত্তু করা সম্ভব হয় (যেখানে উমরা ও হজ একত্রে করা হয়)।

এই মাসগুলোর গুরুত্ব: এই মাসগুলোকে পবিত্র সময় গণ্য করা হয়, যখন হজের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা যায়। সুতরাং হজ পালনের ইচ্ছা থাকলে এই সময়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

✅ [৪৫৯] হজের সংকল্প ও যাত্রা শুরু

হজের সংকল্প: কেউ যদি হজের সংকল্প করে এবং ইহরাম বাঁধে, তাহলে তার আচরণও সেই অনুযায়ী হওয়া উচিত। হজ কেবল বাহ্যিক সফর নয়, এটি আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি ও আল্লাহর প্রতি নিবেদনের সফর।

✅ [৪৬০] হজের সময় নিষিদ্ধ আচরণ

অশ্লীলতা ও ঝগড়া থেকে বিরত থাকা: হজের সময় যৌনাচার, পাপকাজ ও তর্ক-বিতর্ক কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। এই পবিত্র সফর আল্লাহর ইবাদতের সময়, যেখানে মনোযোগ একমাত্র তাঁর প্রতি নিবদ্ধ রাখতে হবে।

সাওয়াব ও গোনাহর প্রভাব: এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, মক্কায় একটি ভাল কাজের প্রতিদান ১০০,০০০ গুণ বেশি, আবার একইভাবে পাপের শাস্তিও বহুগুণ বেশি হয়। তাই এই সময়ে সব রকম দুনিয়াবি তর্ক, গালি-গালাজ, ও অশ্লীল কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি।

✅ [৪৬১] সফরের প্রস্তুতি

আর্থিক প্রস্তুতি: হজে যাওয়ার আগে সঠিক প্রস্তুতি ও পর্যাপ্ত পাথেয় নেওয়া আবশ্যক। কেবলমাত্র “আল্লাহর উপর ভরসা” বলে প্রস্তুতি ছাড়া হজে যাওয়া ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। দায়িত্বশীলতা ও আত্মনির্ভরতা ইসলামের মূলনীতি।

ভিক্ষা বা ঋণ করে হজ নয়: হজ কেবল তার ওপর ফরজ, যার আর্থিক সামর্থ্য রয়েছে। অন্যথায় হজ ফরজ নয়।

✅ [৪৬২] সর্বোত্তম পাথেয় হচ্ছে তাকওয়া

তাকওয়ার গুরুত্ব: আয়াতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, হজে যাওয়ার জন্য যাত্রার সর্বোত্তম প্রস্তুতি হচ্ছে তাকওয়া — আল্লাহভীতি। এটি হজকে সার্থক ও গ্রহণযোগ্য করে তোলে।

✅ [৪৬৩] আল্লাহভীতি ও প্রকৃত জ্ঞান

প্রকৃত জ্ঞান: আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে, যারা আল্লাহকে ভয় করে, তারাই প্রকৃত জ্ঞানী। একদিকে যেমন আবু জাহল দুনিয়াবি লাভের জন্য হজে অংশ নেয়, তেমনি অন্যদিকে হজরত বিলাল (রাঃ) হজের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে চান।

সত্যিকারের বুদ্ধিমত্তা: দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী সফলতা নয়, বরং আখেরাতের জন্য তাকওয়া ও ইবাদত — এটাই প্রকৃত সফলতা।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now