কুরআন - 2:198 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

198
لَيۡسَ عَلَيۡكُمۡ جُنَاحٌ أَن تَبۡتَغُواْ فَضۡلٗا مِّن رَّبِّكُمۡۚ فَإِذَآ أَفَضۡتُم مِّنۡ عَرَفَٰتٖ فَٱذۡكُرُواْ ٱللَّهَ عِندَ ٱلۡمَشۡعَرِ ٱلۡحَرَامِۖ وَٱذۡكُرُوهُ كَمَا هَدَىٰكُمۡ وَإِن كُنتُم مِّن قَبۡلِهِۦ لَمِنَ ٱلضَّآلِّينَ

Transliteration: (Laisa 'alaikum junaahun an tabtaghoo fad lam mir rabbikum; fa izaaa afadtum min 'Arafaatin fazkurul laaha 'indal-Mash'aril Haraami waz kuroohu kamaa hadaakum wa in kuntum min qablihee laminad daaalleen)

অনুবাদ -

এই যে, হজ্বের সময় তোমরা তোমাদের প্রভুর অনুগ্রহ সন্ধান করো তাতে কোনো গোনাহ নেই [464]। তারপর যখন আরাফাত থেকে ফিরে আসো [465], তখন মাশ‘আরিল হারাম-এ আল্লাহর স্মরণ করো [466]। আর যেমনভাবে তিনি তোমাদের পথনির্দেশ করেছেন, তেমনভাবে তাঁকে স্মরণ করো [467]। যদিও এর আগে তোমরা ছিলে পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত [468]।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 198 তাফসীর




📖 সূরা আল-বাকারা - আয়াত ১৯৮ এর ব্যাখ্যা

 

✅ [464] হজ্বের সময় রিযিক অন্বেষণের বৈধতা

এই আয়াত স্পষ্ট করে যে, হজ্বের সময় বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৈধ (যেমন উট ভাড়া দেওয়া বা কেনাবেচা করা)। এতে হজ্বের রীতিনীতিতে কোনো ব্যাঘাত ঘটে না। তবে এই কর্মকাণ্ডগুলো যেন হজ্বের ইবাদতের পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। যদি তা বাধা হয়, তবে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকাই উত্তম, যেন হজ্বের আত্মিক দিকেই মনোনিবেশ করা যায়।

✅ [465] আরাফাতের গুরুত্ব

আরাফাতে উপস্থিত হওয়া হজ্বের একটি ফরয অংশ। ৯ জিলহজ তারিখে আরাফাতে যাওয়া ছাড়া হজ্ব সম্পূর্ণ হয় না। ধনী-গরিব সকল মুসলমানকে এখানে উপস্থিত হতে হয়, যা হজ্বে সাম্যের প্রতীক। আরাফা শব্দটি এসেছে "আরাফা" মূল ধাতু থেকে, যার অর্থ জানা, স্বীকৃতি দেওয়া বা চিনে নেওয়া। এখানে আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালাম একে অপরকে চিনেছিলেন। এখানেই হাজীরা আল্লাহর কাছে খোলা মনে নিজের গুনাহ স্বীকার করে ক্ষমা চান। আরাফার দিন হল রহমত ও মুক্তি লাভের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন।

✅ [466] মাশ‘আরিল হারামের মর্যাদা

আরাফাত থেকে ফিরে হাজীরা মাশ‘আরিল হারাম-এ অবস্থান করেন, যা মুযদালিফার নিকটবর্তী একটি পবিত্র স্থান। এখানে দাঁড়িয়ে আল্লাহর স্মরণ করা হয়। হজ্বে এই স্থানটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে, কারণ এখানে আল্লাহর স্মরণ ও দোয়ার গুরুত্ব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। মুযদালিফায় অবস্থান করা এবং মাশ‘আরিল হারামে আল্লাহর স্মরণ করা হজ্বের ওয়াজিব অংশ, এবং এটি ইবাদত ও আত্মমগ্নতার সময়।

✅ [467] আল্লাহর স্মরণ

এই আয়াতে হজ্বের নির্দিষ্ট স্থানসমূহে আল্লাহর স্মরণ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, যেমন আরাফাত ও মাশ‘আরিল হারাম। স্মরণ বলতে বোঝানো হয়েছে দোয়া ও জিকির, যা রাসূলুল্লাহ ﷺ এর শেখানো মতে পালন করতে হবে। নিয়মিত স্মরণ আত্মিক উন্নতির মাধ্যম এবং আল্লাহর নিকটবর্তী হওয়ার কার্যকর উপায়।

✅ [468] পথনির্দেশের জন্য কৃতজ্ঞতা

আয়াতের শেষে মুমিনদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা একসময় পথভ্রষ্ট ছিল। আল্লাহর রহমত ও নবী মুহাম্মদ ﷺ এর শিক্ষা তাদের হিদায়াতের পথে এনেছে। এই মহান নিয়ামতের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা মুমিনদের কর্তব্য, যেন তারা সঠিক পথ ধরে রাখতে পারে।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now