Transliteration: (Walmutallaqaatu yatarab basna bi anfusihinna salaasata qurooo'; wa laa yahillu lahunna ai yaktumna maa khalaqal laahu feee arhaaminhinna in kunna yu'minna billaahi wal yawmil aakhir; wa bu'oola tuhunna ahaqqu biraddihinna fee zaalika in araadooo islaahaa; wa lahunna mislul lazee alaihinna bilma'roof; wa lirrijjaali 'alaihinna daraja; wallaahu 'Azeezun Hakeem)
আর তালাকপ্রাপ্ত নারীরা তিন হায়েয পর্যন্ত অপেক্ষা করবে [540]। আর তাদের জন্য বৈধ নয় যে, তারা গর্ভে যা সৃষ্টি করেছে, তা গোপন করে [541], যদি তারা আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস করে। আর স্বামীদের অধিক হক রয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে নেওয়ার, যদি তারা মীমাংসা করতে চায় [542]। আর নারীদের জন্য রয়েছে অধিকার, যেমন তাদের ওপর কর্তব্য রয়েছে [543]। তবে পুরুষদের ওপর রয়েছে এক ডিগ্রি (অগ্রাধিকার) [544], আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
এই আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তালাকপ্রাপ্ত নারীকে তিন হায়েয (মাসিক চক্র) ইদ্দত পালন করতে হবে।
🔹 এতে বোঝা যায় যে, বালেগা নারী তার সিদ্ধান্তে স্বাধীন—এই বিষয়ে অভিভাবক তাকে বাধ্য করতে পারে না।
🔹 আর যদি বিয়েতে সহবাস না হয়ে থাকে, তবে চার মাস দশ দিনের ইদ্দত প্রয়োজন হয় না, কুরআনের অন্যান্য স্থানে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা এসেছে।
এই অংশ থেকে দুটি হুকুম প্রমাণিত হয়:
🔹 ইদ্দতের সময় কোনো নারী তার গর্ভধারণ বা মাসিক গোপন করতে পারবে না, কারণ এতে ভবিষ্যৎ বিয়েতে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।
🔹 ইদ্দত ও গর্ভধারণ বিষয়ে নারীর বক্তব্যই গ্রহণযোগ্য, যদি সে বলে যে ইদ্দত শেষ, আর স্বামী তা অস্বীকার করে—তাহলে নারীর কথাই মেনে নেওয়া হবে।
রাজ'ঈ (প্রত্যাবর্তনযোগ্য) তালাকের ক্ষেত্রে, ইদ্দতের মধ্যেই স্বামী স্ত্রীকে রুজু করতে পারে, এতে নতুন করে বিবাহের প্রয়োজন হয় না।
🔹 এই রুজুতে স্ত্রীর সম্মতি আবশ্যক নয়, তবে জবরদস্তি বা জুলুম করা যাবে না।
🔹 পারস্পরিক সমঝোতা ও পুনরায় সংসার গঠনের ইচ্ছা উত্তম ও প্রশংসনীয়।
এখানে দুটো বিষয় উল্লেখযোগ্য:
🔹 স্ত্রীর দায়িত্ব হলো স্বামীকে সহায়তা ও সেবা প্রদান করা, আর স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর প্রয়োজন পূরণ করা।
🔹 কোনো দাসী বা চাকরানিকে স্ত্রীর মর্যাদার সঙ্গে তুলনা করা যায় না, কারণ স্ত্রীর রয়েছে আইনি ও নৈতিক অধিকার, যা দাসীর নেই।
এই আয়াতে বলা হয়েছে, পুরুষের নারীদের ওপর এক ডিগ্রি (দারাজা) রয়েছে, অর্থাৎ বিবাহিত জীবনে দায়িত্ব ও নেতৃত্বের জায়গায় পুরুষকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
🔹 পুরুষের ওপর রয়েছে ভরণপোষণ, মহর ও নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব, তাই তাকে কিছু বাড়তি কর্তৃত্ব দেওয়া হয়েছে।
🔹 তাই স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সমান হলেও, তাদের দায়িত্ব ও অধিকার একই নয় বরং ভারসাম্যপূর্ণ।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 228 তাফসীর