Transliteration: (Tilkar Rusulu faddalnaa ba'dahum 'alaa ba'd; minhum man kallamal laahu wa rafa'a ba'dahum darajaat; wa aatainaa 'Eesab na Maryamal baiyinaati wa ayyadnaahu bi Roohil Qudus; wa law shaaa'al laahu maqtatalal lazeena mimba'dihim mim ba'di maa jaaa'athumul baiyinaatu wa laakinikh talafoo faminhum man aamana wa minhum man kafar; wa law shaaa'al laahu maq tataloo wa laakinnallaaha yaf'alu maa yureed)
এইসব রাসূলদের মধ্যে আমি কিছুদেরকে অন্যদের উপর মর্যাদায় শ্রেষ্ঠ করেছি [641]। তাদের কেউ কেউ এমন আছেন যাদের সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন [642], এবং কেউ কেউ আছেন যাদের তিনি অনেক উঁচু মর্যাদায় উন্নীত করেছেন [643]। আমি ‘ঈসা ইবনে মারইয়াম’কে দিয়েছিলাম স্পষ্ট নিদর্শন [644] এবং তাঁকে পবিত্র আত্মা (জিবরাঈল) দ্বারা সাহায্য করেছিলাম [645]। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তাঁর পরে যারা এসেছিল তারা এই স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ার পরেও পরস্পরে যুদ্ধ করত না [646]। কিন্তু তারা বিভক্ত হয়ে পড়ল—তাদের কেউ বিশ্বাসী আর কেউ কাফির হয়ে গেল। যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে তারা যুদ্ধ করত না [647]। কিন্তু আল্লাহ যা চান, তাই করেন।
সকল নবীই আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো সত্য নবী, কারো নবুয়ত মিথ্যা নয়।
🔹 তবে মর্যাদা ও অবস্থানের দিক থেকে আল্লাহ কিছু নবীকে অন্যদের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন।
🔹 রাসূলুল্লাহ ﷺ সর্বশ্রেষ্ঠ নবী, যাঁর মর্যাদা সর্বোচ্চ।
🔹 যদিও মর্যাদায় পার্থক্য আছে, কিন্তু কোনো নবীকে হেয় করা হারাম, কারণ তাঁরা সবাই আল্লাহর মনোনীত।
হযরত মূসা (আ.)-এর বিশেষ ফজিলত হলো, আল্লাহ তাঁর সাথে সরাসরি কথা বলেছেন, পৃথিবীতেই, কোন মাধ্যম ছাড়া।
🔹 রাসূলুল্লাহ ﷺ-ও মি‘রাজে আল্লাহর সাথে কথা বলেন, তবে তা দুনিয়ায় নয়।
“কেউ কেউকে তিনি উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করেছেন”—এটি রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর প্রতি ইঙ্গিত, যাঁর মর্যাদার কোন সীমা নেই।
🔹 সব নবী নবুয়তে এক, কিন্তু মর্যাদায় রাসূলুল্লাহ ﷺ সবার ঊর্ধ্বে।
কুরআনে বলা হয়েছে “ঈসা ইবনে মারইয়াম”, কারণ তাঁর পিতা ছিল না।
🔹 “তাদেরকে তাদের পিতার নামে ডাকো” (সূরা আহযাব ৩৩:৫) থেকে বুঝা যায়, তাঁর সৃষ্টি অনন্য এবং অলৌকিক।
🔹 কুরআনে মারইয়াম ছাড়া অন্য কোন নারীর নাম নেই, এটিও তাঁর বিশেষ মর্যাদার প্রমাণ।
ঈসা (আ.)-কে জিবরাঈল (আ.) দ্বারা সর্বদা সাহায্য করা হয়েছে, যাকে বলা হয়েছে “পবিত্র আত্মা”।
🔹 এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, আল্লাহর মনোনীত ফেরেশতা ও ওলীদের সাহায্য গ্রহণ করা বৈধ—এটি শিরক নয়।
🔹 কারণ তাঁদের সাহায্য আসলে আল্লাহর পক্ষ থেকে আগত সহায়তা।
নবীগণ বিদায় নেয়ার পর, তাঁদের অনুসারীরা নিজেদের মধ্যে বিভক্ত হয়ে যায়, যদিও তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ ছিল।
🔹 এই আয়াতের মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর উম্মতের মধ্যেও বিভেদ হবে।
🔹 যেমন:
“আল্লাহ চাইলে তারা যুদ্ধ করত না”—এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে যে, এই ঘটনাগুলো আল্লাহর ইচ্ছা ও হিকমতের অন্তর্ভুক্ত।
🔹 অতীত ও ভবিষ্যতের সকল সংঘাত তাকদীর ও ইলাহী পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
🔹 এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে চাইলে, তাফসীরে নাঈমী-র ব্যাখ্যার দিকে মনোযোগ দেওয়া যায়।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 253 তাফসীর