Transliteration: (Bismillaahir Rahmaanir Raheem)
১. আল্লাহ্র নামে [2] শুরু করছি, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু [3]।
“আল্লাহ্র নামে [2] শুরু করছি, যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু [3]।”
✅ [2] বিসমিল্লাহ শব্দ ও এর স্থান
“বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম” সূরা আল-ফাতিহার একটি পূর্ণ আয়াত হিসাবে ধরা হয়। অন্যান্য সূরায় এটি শুধুমাত্র সূচনাবাক্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়, এবং সূরা আত-তাওবাহ ব্যতিক্রম, যেখানে এটি একেবারেই উল্লেখ নেই। এই বাক্যটি প্রতিটি সূরার শুরুতে একটি আত্মিক দোয়া হিসাবে থাকে, যাতে আল্লাহর করুণা ও দয়ার সাথে সূচনা হয়।
✅ [3] “রাহমান” ও “রাহিম” — আল্লাহর গুণাবলির ব্যাখ্যা
আর-রাহমান (পরম করুণাময়): এটি আল্লাহর এমন এক করুণা যা সকল সৃষ্টি — মুসলিম, অমুসলিম, মানুষ, পশুপাখি — সকলের উপর সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
আর-রাহিম (অতি দয়ালু): এটি আল্লাহর এক বিশেষ রহমত, যা শুধুমাত্র মু’মিনদের জন্য, বিশেষ করে আখিরাতে (পরকাল) দেওয়া হবে।
✅ বিসমিল্লাহর ঐতিহাসিক ও ব্যবহারিক গুরুত্ব
✅ ভাষাগত দিক: “বা” অক্ষরের তাৎপর্য
“বিসমিল্লাহ” এর শুরুতে যে “বা” (بِـ) অক্ষর আছে, তা বোঝায় — “সাহায্যে” বা “সহিত”।
অর্থাৎ: “আল্লাহর নামের সাহায্যে আমি শুরু করছি।”
এই ব্যাকরণগত গঠন আমাদের শেখায় — প্রতিটি ভালো কাজ আল্লাহর সাহায্য চেয়ে শুরু করা উচিত।
যেমন আমরা আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করি, তেমনই তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমেও সাহায্য প্রার্থনা করা বৈধ, যেমন হযরত মুহাম্মদ ﷺ — যাঁরা আল্লাহর রহমতের বাহক।
✅ সূরা আল-ফাতিহার মাহাত্ম্য
সূরা আল-ফাতিহা সম্পূর্ণ কুরআনের সারাংশ। এতে রয়েছে:
✅ প্রতিটি ভালো কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু করা
রাসূলুল্লাহ ﷺ বলেছেন:
“যে গুরুত্বপূর্ণ কাজ বিসমিল্লাহ দিয়ে শুরু হয় না, তা অসম্পূর্ণ রয়ে যায়।”
এই হাদীস প্রমাণ করে — প্রতিটি ভালো কাজের সূচনা বিসমিল্লাহ দিয়ে করা উচিত, যাতে তাতে বরকত ও আল্লাহর গ্রহণযোগ্যতা থাকে।
✅ তাওয়াস্সুল (মাধ্যমে সাহায্য চাওয়া) ও বিসমিল্লাহ
যেমন “বিসমিল্লাহ” আল্লাহর নামে সাহায্য চাওয়া, তেমনি তাঁর প্রিয় বান্দাদের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করাও শরিয়ত সম্মত — যেমন হযরত রাসূলুল্লাহ ﷺ, যাঁরা আল্লাহর রহমতের অন্যতম মাধ্যম।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-ফাতিহা আয়াত 1 তাফসীর