কুরআন - 1:2 সূরা আল-ফাতিহা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

2
ٱلۡحَمۡدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلۡعَٰلَمِينَ

Transliteration: (Alhamdu lillaahi Rabbil 'aalameen)

অনুবাদ -

২. সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই [4] যিনি সকল জগতের পালনকর্তা [5]।

সূরা আল-ফাতিহা আয়াত 2 তাফসীর




📖 তাফসীর: আয়াত ২ — সূরা আল-ফাতিহা

“সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই [4] যিনি সকল জগতের পালনকর্তা [5]।”

✅ [4] “আল-হামদু” শব্দের ব্যাখ্যা

🔹 সম্পূর্ণতার অর্থে (Comprehensive Article Interpretation):
“আল-হামদু লিল্লাহি” বাক্যটিতে বহুস্তর বিশিষ্ট অর্থ রয়েছে। যদি “আল” (ال) কে সমগ্রতা নির্দেশকারী ধরা হয়, তবে এর মানে দাঁড়ায়:
প্রত্যেক ধরনের প্রশংসা — হোক তা মুখে বলা, মনে অনুভব করা, কিংবা কোনো কিছুর মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়া — সব কিছুর প্রকৃত মালিক আল্লাহ।

🔸 এই ব্যাখ্যাকে সমর্থন করেছেন আলা হযরত ইমাম আহমদ রাযা খান (রহঃ)। তিনি বলেছেন:
সৃষ্টির যেকোনো অংশের প্রশংসা — প্রকৃতপক্ষে তা স্রষ্টারই প্রশংসা।

উদাহরণ:
প্রকৃতির সৌন্দর্য, জ্ঞান, দয়া বা ন্যায়বিচারের প্রশংসা — সব কিছুই আল্লাহর গুণাবলির প্রতিফলন।

🔹 নির্দিষ্টতার অর্থে (Definite Article Interpretation):
যদি “আল” কে নির্দিষ্টতা নির্দেশকারী ধরা হয়, তবে তা বোঝায়:
শুধুমাত্র সেই প্রশংসাই গ্রহণযোগ্য যা হযরত মুহাম্মদ ﷺ এর শিক্ষার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

📚 তাফসীর রুহুল বায়ান অনুযায়ী:
অবিশ্বাসীদের প্রশংসা — তা যত সুন্দর বা কাব্যিক হোক না কেন — সত্যিকারের আন্তরিকতা ও নবীজীর পথনির্দেশ না থাকার কারণে তা আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

✅ [5] “সকল জগতের রব” — সম্মান ও আদব সহকারে আল্লাহর উল্লেখ

যদিও আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টির প্রভু — তবুও একজন মুমিনের উচিত আদব ও সম্মান বজায় রেখে আল্লাহর নাম নেওয়া।

💖 যেমন: “মুহাম্মদ ﷺ এর রব” বলা — এটা শুধু যথার্থ নয়, বরং ভালোবাসা ও নবীজীর মর্যাদা স্বীকার করার নিদর্শন।
⚠️ এর বিপরীতে, “আবু জাহলের রব” — যদিও সত্য — কিন্তু এতে সম্মান ও প্রেমের ছোঁয়া নেই, বরং তা অনুপযুক্ত।

📌 এই আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়:

  • আমরা যেন আল্লাহর প্রতি সম্মানসূচক ভাষা ব্যবহার করি,
  • এবং নবী করীম ﷺ এর বিশেষ মর্যাদা ও সম্পর্ককে সর্বদা হৃদয়ে রাখি।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now