কুরআন - 1:7 সূরা আল-ফাতিহা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

7
صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنۡعَمۡتَ عَلَيۡهِمۡ غَيۡرِ ٱلۡمَغۡضُوبِ عَلَيۡهِمۡ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ

Transliteration: (Siraatal-lazeena an'amta 'alaihim ghayril-maghdoobi 'alaihim wa lad-daaalleen)

অনুবাদ -

৭. সেইদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যারা আপনার গজবের শিকার [9] নয়, এবং যারা বিভ্রান্ত হয়েছে তাদের পথও নয়।

সূরা আল-ফাতিহা আয়াত 7 তাফসীর




📖 তাফসীর: আয়াত ৭ — সূরা আল-ফাতিহা

“সেইদের পথ, যাদের প্রতি আপনি অনুগ্রহ করেছেন। যারা আপনার গজবের শিকার [9] নয়, এবং যারা বিভ্রান্ত হয়েছে তাদের পথও নয়।”

✅ [9] “গজবপ্রাপ্ত” ও “বিভ্রান্তদের” ব্যাখ্যা

i. ❌ বিভ্রান্ত গোষ্ঠী কারা?

  • “যারা গজবের শিকার” — এ দ্বারা বোঝানো হয়েছে ইহুদি (Bani Isra'il)-দের।
    কারণ তারা জেনেশুনেই নবীদের প্রতি বিদ্বেষ ও বিদ্রোহ করেছে, অথচ তাদের কাছে হেদায়াত ছিল।
  • “যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে” — এ দ্বারা বোঝানো হয়েছে নাসারা (খ্রিস্টান)-দের।
    তারা হযরত ঈসা (আঃ)-এর প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা দেখিয়ে তাকে মানবীয় সীমার বাইরে তুলে ধরেছে।

📌 উভয় গোষ্ঠীই কাফির — তবে আল্লাহ তাদের দু’ভাবে বর্ণনা করেছেন, কারণ:

  • ইহুদিরা ছিল ইচ্ছাকৃত বিদ্রোহী — তাই তারা গজবের উপযুক্ত।
  • খ্রিস্টানরা ছিল অতিরিক্ত আবেগী ও অজ্ঞতার কারণে বিভ্রান্ত — তাই তারা পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত।

✅ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা মুসলিমদের জন্য
🔺 এই আয়াতে মুসলমানদের জন্য সুস্পষ্ট সতর্কবাণী আছে:

  • অমুসলিমদের বিশ্বাস, আচরণ, কৃষ্টি-সংস্কৃতি অনুকরণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • ইহুদি ও খ্রিস্টানদের প্রতি অতিরিক্ত অনুরাগ বা সংস্কৃতির অনুকরণ মুসলমানকে ইসলামের পথ থেকে সরিয়ে কুফরের দরজা খুলে দিতে পারে।

✅ প্রাসঙ্গিক মাসআলা ও বাস্তব শিক্ষা

a. ❌ গুনাহর কাজে বিসমিল্লাহ ব্যবহার করা হারাম

যেকোনো হারাম কাজের শুরুতে “বিসমিল্লাহ” বলা নিষিদ্ধ, কারণ এটা আল্লাহর নামকে অবমাননা করা এবং গুনাহের সাথে জুড়ে দেওয়া হয়।

b. 🐄 জবাইয়ের সময় সঠিক দোয়া

শরিয়ত সম্মতভাবে পশু জবাইয়ের সময় বলতে হয়:
“বিসমিল্লাহি আল্লাহু আকবার”
👉 এখানে রহমতের গুণাবলি (রহমান-রহীম) উল্লেখ না করার কারণ হলো — জীবন গ্রহণের প্রেক্ষাপটে ভিন্ন ধরণে সম্মান দেখানো হয়।

c. 🕌 হামদ (আল্লাহর প্রশংসা) — ধর্মীয় পরিবেশে প্রয়োগ

  • জুমার খুতবায় হামদ পাঠ করা ওয়াজিব।
  • বিবাহ, দোয়া, খাওয়া-দাওয়ার পর — হামদ বলা সুন্নত ও সওয়াবের কাজ।
  • এটি সুন্নত মু’আক্কাদা — অর্থাৎ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে পালনের সুন্নত।

✅ ফিকহী মতভেদ: সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ

d. 🤲 হানাফি মাজহাবে — অনুসারীর করণীয়

হানাফি মতে, মুকতাদি (অনুসারী)-র জন্য সালাতে চুপ থাকা জরুরি।

  • ইমামের কিরাতই জামাআতের জন্য যথেষ্ট।
  • সূরা ফাতিহা শেষে “আমীন” ধীরে বলা উত্তম।
    📖 কুরআন নির্দেশ করে:
    “তোমরা তোমাদের প্রভুকে বিনয় ও গোপনে ডেকো।” — (সূরা আল-আ’রাফ, ৭:৫৫)

e. 📖 শাফিয়ী মাজহাবে — জোরে বিসমিল্লাহ

শাফিয়ী মতে, প্রতিটি সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পাঠ করা আবশ্যক।

  • জহরি (জোরে পড়া) সালাতে ইমাম জোরে বিসমিল্লাহ পড়বেন।
  • অনুসারীরা নরম কণ্ঠে সূরা ফাতিহা পড়বেন এবং “আমীন” জোরে বলবেন।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now