Transliteration: (Wa maa kaana li Nabiyyin ai yaghull; wa mai yaghlul ya'tibimaa ghalla Yawmal Qiyaamah; summa tuwaffaa kullu nafsim maa kasabat wa hum laa yuzlamoon)
কোনো নবী কিছু গোপন করেন—এটি ধারণাও করা যায় না [364]; আর যে কেউ কিছু গোপন করে, কিয়ামতের দিন তা প্রকাশ করে দেওয়া হবে। তারপর প্রত্যেক ব্যক্তি যা উপার্জন করেছে, তা পূর্ণভাবে তাকে দেওয়া হবে [365], এবং তাদের প্রতি কোনো অবিচার করা হবে না [366]।
“কিছু গোপন করেন” বলতে বোঝানো হয়েছে যুদ্ধলব্ধ সম্পদে বিশ্বাসঘাতকতা বা আত্মসাৎ। এই আয়াতের অবতারণার কারণ: এক যুদ্ধে লুণ্ঠিত সম্পদের মধ্য থেকে একটি চাদর হারিয়ে গেলে মুনাফিকরা ইঙ্গিত করে যে নবী করীম ﷺ হয়তো তা রেখেছেন। এই মিথ্যা অপবাদ খণ্ডন করতে আল্লাহ নিজেই এই আয়াত অবতীর্ণ করেন। এ থেকে চারটি বিষয় প্রতীয়মান হয়ঃ
১. যুদ্ধলব্ধ সম্পদ বিতরণের আগে কোনো কিছু আত্মসাৎ করা ইসলামে গুরুতর অপরাধ।
২. নবীগণ নিষ্পাপ—পাপ ও নবুওতের সম্পর্ক আলো ও অন্ধকারের মতো বিপরীত।
৩. নবীর সততায় সন্দেহ করা মুনাফিকদের বৈশিষ্ট্য, যা এক সময় কুফরির দিকে নিয়ে যায়।
৪. আল্লাহ নিজেই তাঁর নবীদের সত্যতা প্রমাণ করেন এবং মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্ত করেন।
নবীগণ প্রেরিত হয়েছেন মানুষকে পাপ থেকে মুক্ত করতে ও হিদায়তের পথে আনার জন্য। যদি নবী নিজেই পাপে লিপ্ত হন, তবে কে পাপীকে পথ দেখাবে? তাই নবীদের পক্ষে বিশ্বাসঘাতকতা বা প্রতারণা অসম্ভব। তাঁদের দায়িত্বের দাবি—পূর্ণ নৈতিকতা ও পবিত্রতা।
“অবিচার করা হবে না” অর্থ—আল্লাহ কাউকে তার সৎকর্মের প্রতিদান কম দিবেন না, কিংবা অপরাধের অতিরিক্ত শাস্তি দিবেন না। এমনকি কেউ অপরাধ না করলে তাকে শাস্তি দেওয়া হবে না। প্রত্যেকেই তার নিজ কর্মের পূর্ণ প্রতিফল পাবে, নিখুঁত ন্যায়ের মাধ্যমে।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আলে ইমরান আয়াত 161 তাফসীর