Transliteration: (Wa laa tahsabannal lazeena qutiloo fee sabeelillaahi amwaata; bal ahyaaa'un 'inda Rabbihim yurzaqoon)
আর যারা আল্লাহর পথে নিহত হয়েছে [384], তাদেরকে কখনোই মৃত ভাবো না [385]; বরং তারা জীবিত, তাদের প্রতিপালকের সান্নিধ্যে আছে এবং তিনি তাদের রিজিক দান করেন [386]।
এই আয়াতে আল্লাহর রাস্তায় শহীদদের পাঁচটি অনন্য বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে:
১. তারা চিরন্তন জীবন লাভ করে।
২. তারা আল্লাহর নিকটবর্তী হয়।
৩. তারা অবিরাম রিজিক পায়।
৪. তারা দুনিয়া ও দুনিয়াবাসীর বাস্তবতা সম্পর্কে সম্পূর্ণ সচেতন।
৫. তাদের জীবন অন্যদের তুলনায় পরিপূর্ণ ও শ্রেষ্ঠ, যেমন—গর্ভস্থ শিশু, নবজাতক, অসুস্থ, ঘুমন্ত অথবা কারাবন্দির জীবন সীমাবদ্ধ, কিন্তু শহীদদের অস্তিত্ব পূর্ণতা ও মর্যাদায় পরিপূর্ণ।
আহ্ইয়াউনের (أَحْيَاءٌ) ‘হামযা’-তে তানভীন ব্যবহার করা হয়েছে সম্মান প্রকাশের জন্য। দুনিয়ার জীবনে শহীদের আত্মা সীমাবদ্ধ থাকলেও, শহীদ হওয়ার পর তাদের আত্মা এক কদমেই মদীনায় পৌঁছায়—এমনও বর্ণনা রয়েছে।
যদিও এই আয়াত উহুদের শহীদদের জন্য নাজিল হয়েছিল, তবে এর সাধারণ ভাষা প্রমাণ করে যে, কেয়ামত পর্যন্ত সকল শহীদের ক্ষেত্রেই এ বিধান প্রযোজ্য। অর্থাৎ, প্রত্যেক শহীদই চিরন্তন জীবন লাভ করেন। তাদের দেহ ও আত্মা উভয়ই জীবিত থাকে, যার কারণে তাদের মৃতদেহ কবরে পচে না—এমন ঘটনা বহুবার প্রমাণিত হয়েছে। তবে এই জীবনধারা আমাদের দুনিয়াবি বোধগম্যতার বাইরে। এজন্য শহীদদের জন্য পরম-মৃত্যুপরবর্তী কিছু বিধান ভিন্ন। বিস্তারিত জানতে তাফসীরে নঈমীর দ্বিতীয় পারা দেখুন।
এখানে ‘রিজিক’ শুধু কবরের আত্মিক নেআমত বোঝায় না—যা সকল ঈমানদারই পান—বরং তা জান্নাতের বাস্তব ফল-মূল ও ভোগসামগ্রী বোঝায়। শহীদদের আত্মা সবুজ পাখির রূপে জান্নাতে বিচরণ করে, এবং তারা জান্নাতের নিয়ামত থেকে ইচ্ছামতো খায় ও পান করে। এভাবে তারা জান্নাতের আরাম-আয়েশ ও দয়ার দান উপভোগ করে থাকে।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আলে ইমরান আয়াত 169 তাফসীর