Transliteration: (Wa liya'lamal lazeena naafaqoo; wa qeela lahum ta'aalaw qaatiloo fee sabeelil laahi awid fa'oo qaaloo law na'lamu qitaalallat taba'naakum; hum lilkufri yawma'izin aqrabu minhum lil eemaan; yaqooloona bi afwaahihim maa laisa fee quloobihim; wallaahu a'lamu bimaa yaktumoon)
এবং যেন তিনি মুনাফিকদের প্রকাশ করতে পারেন [378], যাদের বলা হয়েছিল, “আল্লাহর পথে যুদ্ধ করো, অথবা (অন্তত) শত্রুদের প্রতিহত করো” [379]। তারা বলল, “যদি আমরা যুদ্ধ করার জ্ঞান রাখতাম, তবে অবশ্যই তোমাদের সঙ্গে থাকতাম।” তারা সেদিন ঈমানের তুলনায় কুফরীর নিকটতর ছিল [380]; তারা মুখে বলছিল যা তাদের অন্তরে ছিল না [381]। আর আল্লাহ জানেন যা তারা গোপন রাখে।
উহুদের পরাজয় ছিল আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি পরীক্ষা, যার মাধ্যমে মুমিন ও মুনাফিকদের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে যায়। যারা দৃঢ়তা বজায় রেখেছিল, তারা ঈমানদার প্রমাণিত হয়, আর যারা কটুক্তি করে পালিয়ে যায়, তারা মুনাফিক হিসাবে চিহ্নিত হয়। সুবহানাল্লাহ! সাহাবায়ে কেরামের একটি সামান্য ভ্রান্তিও মুনাফিকদের চিনিয়ে দেয়ার উপায় হয়ে দাঁড়ায়। যারা সাহাবায়ে কেরামকে অসম্মান করে, তারা মুনাফিক, আর যারা তাঁদের সম্মান করে, তারা প্রকৃত মুমিন। কিয়ামত পর্যন্ত এই যুদ্ধ ঈমান ও নিফাক চেনার মানদণ্ড হয়ে থাকবে।
এই আয়াত থেকে বোঝা যায়, জিহাদ শুধু অস্ত্র হাতে যুদ্ধ নয়, বরং শত্রুর মোকাবেলায় দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করাও ইবাদত। যুদ্ধে না যাওয়ার অজুহাত তুলে ময়দান থেকে সরে যাওয়া, বিশেষ করে যখন মুসলিমরা বিপদের মুখে থাকে, তা মুনাফিকদের চিহ্ন। “আমরা যুদ্ধ করতে পারি না” বা “আমরা প্রশিক্ষিত নই”—এমন অজুহাতও মুনাফিকদের চেতনার পরিচায়ক। একজন মুসলমানের উচিত এইরকম ভীরুতা ও অজুহাত থেকে বিরত থাকা।
এই মুনাফিকরা মুখে ঈমানের দাবি করলেও আসলে তারা কুফরীর নিকটতর ছিল। অন্তর থেকে তারা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি বিশ্বস্ত ছিল না, যদিও মুখে সহানুভূতির কথা বলেছিল। এটি প্রমাণ করে, আন্তরিক ঈমান বাহ্যিক দাবির চেয়ে শক্তিশালী। অনেক সময় মুনাফিকরা বাহ্যত মুসলিমদের কাছাকাছি থাকে, কিন্তু বাস্তবে তারা কাফেরদের পক্ষাবলম্বন করে। উদাহরণ: আবু জাহল ছিলেন শরীরিকভাবে রাসূল ﷺ এর কাছে, কিন্তু ঈমানহীনতায় ছিলেন দূরে। অপরদিকে, হজরত উওয়াইস কারনি (রহ.) ছিলেন শরীরিকভাবে দূরে, কিন্তু আন্তরিক ঈমান তাঁকে নিকটবর্তী করেছিল।
মুনাফিকরা বাহ্যিকভাবে বলেছিল যে তারা যুদ্ধ বিদ্যা জানে না, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা চেয়েছিল মুসলমানরা পরাজিত হোক এবং কাফেররা জয়ী হোক। তারা মুখে বলেছে এক কথা, কিন্তু অন্তরে লুকিয়ে রেখেছে বিশ্বাসঘাতকতা। মুসলিম সমাজে সবসময়ই এমন লোক থাকে, যারা মুখে ঈমানের কথা বলে, কিন্তু অন্তরে বিশ্বাসঘাতকতা পোষণ করে। আল্লাহ তাদের গোপন অভিপ্রায় জানেন এবং এর জন্য তাদের জবাবদিহি করাবেন।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আলে ইমরান আয়াত 167 তাফসীর