কুরআন - 3:180 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

180
وَلَا يَحۡسَبَنَّ ٱلَّذِينَ يَبۡخَلُونَ بِمَآ ءَاتَىٰهُمُ ٱللَّهُ مِن فَضۡلِهِۦ هُوَ خَيۡرٗا لَّهُمۖ بَلۡ هُوَ شَرّٞ لَّهُمۡۖ سَيُطَوَّقُونَ مَا بَخِلُواْ بِهِۦ يَوۡمَ ٱلۡقِيَٰمَةِۗ وَلِلَّهِ مِيرَٰثُ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعۡمَلُونَ خَبِيرٞ

Transliteration: (Wa laa yahsabannal lazeena yabkhaloona bimaa aataahumul laahu min fadilhee huwa khairal lahum bal huwa sharrul lahum sayutaw waqoona maa bakhiloo bihee Yawmal Qiyaamah; wa lillaahi meeraasus samaawaati wal ard; wallaahu bimaa ta'maloona Khabeer)

অনুবাদ -

আর যারা আল্লাহ তাঁদের প্রতি নিজ অনুগ্রহে যা দিয়েছেন তাতে কৃপণতা করে, তারা যেন মনে না করে যে এটি তাদের জন্য ভালো; বরং এটি তাদের জন্য মন্দ। যে বস্তুতে তারা কৃপণতা করেছে, তা কিয়ামতের দিন তাদের গলায় বেড়ি হয়ে যাবে [410]। আর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীর মালিকানা আল্লাহরই। আর আল্লাহ তোমাদের কাজের খবর রাখেন [411]।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 180 তাফসীর




📖 সূরা আলে ইমরান - আয়াত 180 এর ব্যাখ্যা

 

✅ [408] কৃপণতা হলো অধিকার অস্বীকার করা

এখানে “কৃপণতা” বোঝায় সেই আচরণ, যেখানে মানুষ আল্লাহ প্রদত্ত নিয়ামত থেকে মানুষের ও আল্লাহর প্রাপ্য অধিকার আদায় করে না। এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত:

  • মানবাধিকার (যেমন: আত্মীয়স্বজন, পিতা-মাতা বা সন্তানদের সহযোগিতা করা),
  • ধর্মীয় অধিকার (যেমন: যাকাত আদায় করা),
  • আল্লাহর অধিকার।
    এই ধরনের কৃপণতাই এই আয়াতে নিন্দিত হয়েছে।

✅ [409] কৃপণতা শুধু ধনে নয়

আয়াতে “যা আল্লাহ দিয়েছেন” শব্দটি শুধু ধন-সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর অর্থ:

  • জ্ঞান,
  • ক্ষমতা,
  • অবস্থান ইত্যাদিও হতে পারে।
    এই আয়াত আমাদের শেখায়, আল্লাহ যা দিয়েছেন তা আমাদের আমানত, কেবল নিজেদের কৃতিত্বে অর্জিত নয়। এগুলো গোপন করে রাখা বা মানুষকে বঞ্চিত করাই কৃপণতা।

✅ [410] কিয়ামতের দিনে কৃপণ সম্পদ হবে গলার বেড়ি

হাদীসে এসেছে, যে ব্যক্তি যাকাত দিবে না, কিয়ামতের দিন তার সেই সম্পদ বিষধর সাপ হয়ে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরবে, যা তাকে বারবার দংশন করবে এবং বলবে:
“আমি তোমার সম্পদ—যার যাকাত তুমি দাওনি।”
এই আয়াতে “গলায় বেড়ি” কথাটি সেই বিভৎস শাস্তিরই প্রতীক, যা কৃপণতার জন্য নির্ধারিত।

✅ [411] নিয়ামতের ভেতরও থাকতে পারে শাস্তি

এই আয়াত একটি গভীর শিক্ষা দেয়:
যদি কেউ গোনাহ করেও বারবার নিয়ামত পেতে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে—এটা সবসময় পুরস্কার নয়, বরং একধরনের গোপন শাস্তি।
অন্যদিকে, যদি গোনাহর পর তৎক্ষণাৎ শাস্তি আসে, তা আসলে আল্লাহর দয়া, যাতে সে দ্রুত তাওবা করতে পারে।
আল্লাহ আমাদের প্রতিটি কাজ, নিয়ত ও গোপন উদ্দেশ্য জানেন—কে সত্যিকার কৃতজ্ঞ, আর কে প্রতারক, তিনিই জানেন।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now