কুরআন - 3:73 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

73
وَلَا تُؤۡمِنُوٓاْ إِلَّا لِمَن تَبِعَ دِينَكُمۡ قُلۡ إِنَّ ٱلۡهُدَىٰ هُدَى ٱللَّهِ أَن يُؤۡتَىٰٓ أَحَدٞ مِّثۡلَ مَآ أُوتِيتُمۡ أَوۡ يُحَآجُّوكُمۡ عِندَ رَبِّكُمۡۗ قُلۡ إِنَّ ٱلۡفَضۡلَ بِيَدِ ٱللَّهِ يُؤۡتِيهِ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ وَٰسِعٌ عَلِيمٞ

Transliteration: (Wa laa tu'minooo illaa liman tabi'a deenakum qul innal hudaa hudal laahi ai yu'taaa ahadum misla maaa ooteetum aw yuhaaajjookum 'inda Rabbikum, qul innal fadla biyadil laah; yu'teehi mai yashaaa'; wallaahu Waasi'un 'Aleem)

অনুবাদ -

আর তোমরা বিশ্বাস করো না, কিন্তু শুধুমাত্র তাদেরকেই যারা তোমাদের ধর্ম অনুসরণ করে [153]। বলো: নিশ্চয়ই সঠিক পথনির্দেশ হচ্ছে আল্লাহর পথনির্দেশ, যাতে না হয় তোমাদেরকে যা দেওয়া হয়েছে, তা অন্যদেরকে দেওয়া হয় [154], কিংবা তারা তোমাদের প্রতিপালকের সামনে তা নিয়ে বিতর্ক করে। বলো: সব অনুগ্রহ তো আল্লাহর হাতেই—তিনি যাকে ইচ্ছা তা প্রদান করেন [155]। আল্লাহ অসীম করুণাশীল, সর্বজ্ঞ।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 73 তাফসীর




📖 সূরা আলে ইমরান – আয়াত ৭৩ এর ব্যাখ্যা

 

✅ [153] ইয়াহুদীদের ভণ্ডামিপূর্ণ মানসিকতা

এই আয়াতটি নির্দেশ করে যে—

  • ইসরাঈল বংশীয় ইয়াহুদীরা মনে করত, নবুওত শুধুমাত্র তাদের জাতির জন্য বরাদ্দ।
  • তারা বিশ্বাস করতে পারত না যে ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধর হতে পারে নবী।
  • এজন্য তারা অন্যদের ইসলাম গ্রহণে বাধা দিত, এমনকি বাইরের লোকজনকে বিশ্বাস করতে নিষেধ করত।
  • তারা বাহ্যিকভাবে ইসলাম গ্রহণের ভান করত, কিন্তু অন্তরে তা অস্বীকার করত।
    এই প্রবণতা তাদের পুরনো ভণ্ডামির নিদর্শন হিসেবে তাফসীর নঈমীতে বর্ণিত হয়েছে।

✅ [154] নবুওতের একচেটিয়া দাবির অমূলকতা

ইয়াহুদীদের এই দাবি—
“শুধুমাত্র বনী ইসরাঈলে নবী আসতে পারে”—কোনও কিতাবেই সমর্থিত নয়।
কুরআন তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে, যেমন:

“আর আমরা ইব্রাহীমের বংশধরদের মধ্যেই নবুওত ও কিতাব প্রদান করেছি।” (সূরা আনকাবুত: ২৭)

এর অর্থ:

  • নবুওত শুধু বনী ইসরাঈলে সীমাবদ্ধ নয়, বরং ইসমাঈল (আ.)-এর বংশধরদের মাঝেও নবী এসেছে।
  • নবী মুহাম্মদ ﷺ হলেন ইসমাঈলের (আ.) বংশধর, এবং এই আয়াত প্রমাণ করে তিনি প্রকৃত নবী।
  • সুতরাং, মির্জা গুলাম আহমদ কাদিয়ানি যিনি এই বংশের নন, তিনি মিথ্যা দাবিদার।

✅ [155] নবুওত হল আল্লাহর পক্ষ থেকে এক অনুগ্রহ

এই আয়াত প্রমাণ করে:

  • নবুওত অর্জনের বিষয় নয়, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি দান।
  • আল্লাহ যাকে ইচ্ছা নবী বানান, এতে ইহুদি বা অন্য কারো দাবি বা সীমা নির্ধারণের ক্ষমতা নেই।
  • যেমন:
    • হযরত আদম (আ.) ও হযরত ঈসা (আ.) জন্ম থেকেই নবী ছিলেন।
    • হযরত মরিয়ম (আ.) ছোটবেলায়ই আল্লাহর প্রিয় বান্দী হন, কোনো আমল ছাড়াই—এটা ছিল আল্লাহর রহমত।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now