Transliteration: (Yaa ayyuhal lazeena aamanoo kutiba 'alaikumus Siyaamu kamaa kutiba 'alal lazeena min qablikum la'allakum tattaqoon)
হে ঈমানদারগণ! রোযা তোমাদের উপর ফরয করা হয়েছে [398] যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা পরহেযগার হতে পারো [400]।
🔹 ফরয রোযার নির্দেশনা:
এই আয়াতে রমাযান মাসের রোযাকে ফরয করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আশুরার (১০ই মুহাররাম) রোযা ফরয ছিল, এরপর প্রতি মাসে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা ফরয করা হয়। পরে রমাযানের রোযা ফরয হওয়ায় পূর্বের রোযাগুলো রহিত (মансূখ) হয়ে যায়।
🔹 রহিতকরণ (Abrogation):
রমাযানের রোযার নির্দেশ হিজরতের দ্বিতীয় বছরে দেওয়া হয়, যা পূর্ববর্তী রোযাগুলোর বিধানকে প্রত্যাহার করে দেয়।
🔹 অমুসলিমদের দায়িত্ববোধ:
এই আয়াতে বোঝানো হয়েছে, অবিশ্বাসীদের উপর ইসলামি বিধান যেমন রোযা ইত্যাদি ফরয নয়, যতক্ষণ না তারা ইসলাম গ্রহণ করে। ইসলাম গ্রহণের পর তাদের ইসলামের পূর্ববর্তী সময়ের ইবাদতসমূহ কাযা করা লাগবে না।
🔹 ঐতিহাসিক বিধান:
রোযা কেবল ইসলামেই নয়, বরং পূর্ববর্তী নবীদের যুগেও একটি ফরয ইবাদত ছিল। এটি একটি দীর্ঘকালীন ধর্মীয় চর্চা।
🔹 তাকওয়ার পথ:
রোযা পরহেযগারতা অর্জনের একটি মাধ্যম, যা মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণ ও প্রবৃত্তির দমন করতে সাহায্য করে। এতে একজন ব্যক্তি দুনিয়াবি ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে বিরত রাখে এবং আল্লাহর সান্নিধ্য লাভে মনোনিবেশ করে।
🔹 আমলের উপর ভরসা নয়, বরং আল্লাহর রহমতের আশা:
যদিও ভালো আমল গুরুত্বপূর্ণ, তবুও কেবল সেগুলোর উপর নির্ভর না করে, রোযার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও নৈকট্য কামনা করতে বলা হয়েছে। আয়াতের "যাতে তোমরা হতে পারো" বাক্যাংশটি বোঝায় যে, তাকওয়া অর্জনের চেষ্টা করতে হবে, কিন্তু তা নিশ্চিত নয় — বরং এটা মানুষের আন্তরিক প্রয়াস এবং আল্লাহর অনুগ্রহের ওপর নির্ভর করে।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 183 তাফসীর