কুরআন - 2:184 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

184
أَيَّامٗا مَّعۡدُودَٰتٖۚ فَمَن كَانَ مِنكُم مَّرِيضًا أَوۡ عَلَىٰ سَفَرٖ فَعِدَّةٞ مِّنۡ أَيَّامٍ أُخَرَۚ وَعَلَى ٱلَّذِينَ يُطِيقُونَهُۥ فِدۡيَةٞ طَعَامُ مِسۡكِينٖۖ فَمَن تَطَوَّعَ خَيۡرٗا فَهُوَ خَيۡرٞ لَّهُۥۚ وَأَن تَصُومُواْ خَيۡرٞ لَّكُمۡ إِن كُنتُمۡ تَعۡلَمُونَ

Transliteration: (Ayyaamam ma'doodaat; faman kaana minkum mareedan aw'alaa safarin fa'iddatum min ayyaamin ukhar; wa 'alal lazeena yuteeqoonahoo fidyatun ta'aamu miskeenin faman tatawwa'a khairan fahuwa khairul lahoo wa an tasoomoo khairul lakum in kuntum ta'lamoon)

অনুবাদ -

গণনাকৃত কয়েকটি দিন [401]; অতএব তোমাদের মধ্যে কেউ অসুস্থ [402] হলে অথবা সফরে থাকলে [403], সে যেন অন্য দিনে রোযা পূরণ করে [404]। আর যাদের তাওফীক নেই [405], তাদের উপর ফিদইয়া [406] — প্রতি রোযার বদলে একজন মিসকীনকে খাদ্য প্রদান করা। তবে কেউ নিজ ইচ্ছায় উত্তম কাজ করে, সেটি তার জন্য উত্তম [407]। আর রোযা রাখা তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা বুঝতে [408] পারো।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 184 তাফসীর




📖 আল-বাকারা – আয়াত ১৮৪ এর তাফসীর

 

✅ [401] রোযার গণনাকৃত দিন

রোযার সীমিত সময়:
রমাযানের রোযার সময় ২৯ থেকে ৩০ দিন নির্ধারিত। যদিও ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কষ্ট কিছুটা আছে, কিন্তু এই কষ্ট সাময়িক, যেখানে আল্লাহ সারাবছর আমাদের রিজিক দিয়ে থাকেন।
এই সংক্ষিপ্ত সময় আল্লাহর নির্দেশ মান্য করে রোযা রাখা ঈমানদারের কর্তব্য।

✅ [402] অসুস্থতা ও রোযা

অসুস্থ ব্যক্তির রোযা:
যদি কারো অসুস্থতা এমন হয় যে রোযা রাখা তার শরীরের জন্য ক্ষতিকর হয়, তবে সে রোযা না রেখে পরে কাযা আদায় করতে পারে। তবে যদি রোযা শরীরের জন্য উপকারী হয়, তাহলে রোযা রাখা উচিত।

✅ [403] সফর ও রোযা

ভ্রমণে রোযার বিধান:
যদি কেউ ৫৭ মাইল (৯২ কিমি) বা তার চেয়ে বেশি দূরত্বে ভ্রমণ করে এবং ১৫ দিনের কম থাকার নিয়ত করে, তাহলে সে রোযা রাখতে না পারলে পরে তা কাযা করতে পারবে। এটা শরঈ সফরের সংজ্ঞা।

✅ [404] কাযা রোযা আদায়

মিসকৃত রোযার কাযা:
অসুস্থ বা মুসাফির ব্যক্তি চাইলে রোযা রাখতে পারে, আবার রোযা না রেখে পরে কাযা করাও বৈধ।
হাদীসের আলোকে মুসাফিরদের জন্য কসর নামায পড়াও বিধান।

✅ [405] রোযা রাখতে অক্ষম ব্যক্তি

রোযায় অক্ষমতা:
যারা রোযা রাখতে শারীরিকভাবে পুরোপুরি অক্ষম, যেমন অতিবৃদ্ধ বা মরণব্যাধিতে আক্রান্ত ব্যক্তি, তাদের জন্য রোযা রাখা ফরয নয়। তাদের প্রতি রোযার বদলে এক মিসকীনকে খাওয়ানো ফিদইয়া দিতে হয়।

✅ [406] ফিদইয়ার পরিমাণ

ফিদইয়ার বিধান:
যারা রোযা রাখতে একেবারেই সক্ষম নয় এবং ভবিষ্যতেও সক্ষম হবার সম্ভাবনা নেই, তারা প্রতি রোযার বদলে একজন গরীবকে খাওয়ানো বা ২.২৫ কেজি গম (ঈদের ফিতরার সমপরিমাণ) প্রদান করতে পারে।

✅ [407] উত্তম দান

স্বেচ্ছায় উত্তম দান:
যদি কেউ ফিদইয়ার চেয়েও অধিক পরিমাণে দান করে, তবে তা উত্তম আমল হিসেবে গণ্য হবে এবং এর জন্য আল্লাহ বিশেষ সওয়াব প্রদান করবেন। কিন্তু এটি আবশ্যক নয়।

✅ [408] রোযাই শ্রেয়

রোযা রাখাই উত্তম:
যদিও অসুস্থ ও মুসাফিরদের জন্য ছাড় আছে, তবুও যদি রোযা রাখা সম্ভব হয়, তবে রোযা রাখাই উত্তম ও অধিক সওয়াবের কাজ।
ফিদইয়ার তুলনায় রোযার মর্যাদা অনেক বেশি, তাই সামর্থ্য থাকলে রোযা রাখাই উচিত।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now