Transliteration: (Yas'aloonaka 'anish Shahril Haraami qitaalin feehi qul qitaalun feehi kabeerunw wa saddun 'an sabeelil laahi wa kufrum bihee wal Masjidil Haraami wa ikhraaju ahlihee minhu akbaru 'indal laah; walfitnatu akbaru minal qatl; wa laa yazaaloona yuqaatiloonakum hatta yaruddookum 'an deenikum inis tataa'oo; wa mai yartadid minkum 'an deenihee fayamut wahuwa kaafirun fa ulaaa'ika habitat a'maaluhum fid dunyaa wal aakhirati wa ulaaa'ika ashaabun Naari hum feehaa khaalidoon)
তারা আপনাকে জিজ্ঞাসা করে পবিত্র মাসে যুদ্ধ সম্পর্কে। বলে দিন, এই মাসে যুদ্ধ করা একটি মহা গুনাহ [507], কিন্তু আল্লাহর পথে বাধা দেওয়া, তাঁর প্রতি কুফরি করা, মসজিদুল হারামে প্রবেশ রোধ করা এবং তার অধিবাসীদের বহিষ্কার করা — এসব কাজ আল্লাহর দৃষ্টিতে আরও বড় গুনাহ [508]। ফিতনা হত্যা অপেক্ষাও বড় অপরাধ [509]। তারা তোমাদের সাথে যুদ্ধ করতে থাকবে যতক্ষণ না তোমাদেরকে তোমাদের দ্বীন থেকে ফিরিয়ে দিতে পারে, যদি তাদের সাধ্য থাকে [510]। আর তোমাদের মধ্যে কেউ যদি নিজের দ্বীন থেকে ফির যায় [511] এবং কাফির অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, তবে দুনিয়া ও আখিরাতে তাদের সব আমল নিষ্ফল হয়ে যাবে [512] এবং তারা দোযখবাসী, সেখানে চিরকাল থাকবে।
ইসলামের প্রাথমিক যুগে চারটি পবিত্র মাসে যুদ্ধ নিষিদ্ধ ছিল: রজব, জিলক্বদ, জিলহজ্জ ও মুহাররম।
🔹 মুশরিকরাও এই নিয়ম মানত।
🔹 আবদুল্লাহ ইবনে জাহশ ভুলক্রমে রজব মাসে যুদ্ধ করেন, ভেবে নিয়েছিলেন সেটা ছিল জামাদিউস সানির ৩০ তারিখ।
🔹 “মহা গুনাহ” বলা হয়েছে সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, ওই বিশেষ ঘটনার জন্য নয়।
এই আয়াতে উল্লেখ রয়েছে — ইবাদতে বাধা দেওয়া ও মুসলিমদের তাদের ঘর থেকে বের করে দেওয়া আল্লাহর দৃষ্টিতে বড় অপরাধ।
🔹 কাফিররা মুসলিমদের সামান্য ভুলকে উপহাস করতো, অথচ নিজেরা করতো গুরুতর গুনাহ।
🔹 আল্লাহ তাদের এই ভণ্ডামির জবাব দেন এবং মুমিনদের পক্ষ নেন।
এই আয়াত জানিয়ে দেয় — ফিতনা, অর্থাৎ অবিচার, জুলুম, ইবাদতে বাধা ও সমাজে বিশৃঙ্খলা — এগুলো হত্যার চেয়েও বড় গুনাহ।
🔹 মুশরিকদের শিরক ও নিপীড়ন মুসলিমদের উপর ছিল শারীরিক হত্যার চেয়েও জঘন্য।
🔹 আল্লাহ স্পষ্ট করেন যে তিনি মুশরিকদের এসব কাজের প্রতি অসন্তুষ্ট।
এই আয়াতে দুইটি শিক্ষা দেওয়া হয়েছে:
🔹 কাফিররা কখনোই মুমিনদের প্রকৃত বন্ধু হতে পারে না।
🔹 তারা চেষ্টা করলেও ঈমানদাররা যদি দৃঢ় থাকে, কাফিররা কখনো বিজয়ী হতে পারবে না।
🔹 তাই মুসলমানদের উচিত আস্থা ও সাহস নিয়ে ঈমান আঁকড়ে ধরা।
যে ব্যক্তি ইসলাম ত্যাগ করে, তার সব সওয়াব ও আমল বাতিল হয়ে যায়।
🔹 আবার কেউ ফিরে এলে হজসহ সমস্ত ইবাদত পুনরায় আদায় করতে হয়।
🔹 তবে, একজন কাফির ইসলাম গ্রহণ করলে তার পূর্বের ভালো কাজগুলো গ্রহণযোগ্য হয়।
একজন মুরতাদের জন্য ফলাফল অত্যন্ত ভয়াবহ:
🔹 তার বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে যায়, স্ত্রীর সাথে সম্পর্ক বৈধ থাকে না।
🔹 উত্তরাধিকারের অধিকার হারায়, সম্পদ লুট হয়ে যেতে পারে।
🔹 ইসলামি আইন অনুযায়ী শাস্তি হতে পারে — এমনকি মৃত্যুদণ্ডও।
🔹 আখিরাতে সে হবে চিরকাল জাহান্নামে, তার কোনো সওয়াব বা মুক্তির সুযোগ নেই।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 217 তাফসীর