Transliteration: (Wa izaa tallaqtumun nisaaa'a fabalaghna ajalahunna falaa ta'duloo hunna ai yankihna azwaaja hunna izaa taraadaw bainahum bilma' roof; zaalika yoo'azu bihee man kaana minkum yu'minu billaahi wal yawmil aakhir; zaalikum azkaa lakum wa at-har; wallaahu ya'lamu wa antum laa ta'lamoon)
আর যখন তোমরা নারীদের তালাক দেবে এবং তাদের ‘ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাবে, তখন যদি তারা নিজেদের পছন্দমতো যথাযথভাবে (পূর্ব) স্বামীদের সঙ্গে বিবাহ করতে চায়, তবে তাদের এতে বাধা দিয়ো না [560]। এ উপদেশ তাদের জন্য, যারা আল্লাহ ও আখিরাতে ঈমান রাখে [561]। এটাই তোমাদের জন্য অধিক পবিত্র ও পরিশুদ্ধ [562]। আর আল্লাহ জানেন, আর তোমরা জানো না [563]।
এই আয়াতটি প্রমাণ করে যে, কোনো নারীর ‘ইদ্দত শেষ হলে, তিনি তার প্রাক্তন স্বামীর সাথে নিজের পছন্দে পুনরায় বিবাহ করতে পারেন।
🔹 এক্ষেত্রে অভিভাবক (ওয়ালি) তাকে বাধা দিতে পারে না, বিশেষ করে যখন পূর্ব স্বামীর সাথেই পুনরায় বিবাহ করতে চায়।
🔹 তবে এতে শর্ত আছে—যেন এই বিয়েতে গোত্রবিরোধ, সামাজিক অমিল, কিংবা পারিবারিক অপমানের আশঙ্কা না থাকে।
"যথাযথভাবে" শব্দ দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে এই বিবাহ:
🔹 ইসলামবিরোধী বা হারাম কোনো শর্ত ছাড়া হতে হবে।
🔹 মহর (বিয়ের দেনমোহর) বৈধ ও প্রচলিত হতে হবে।
🔹 যদি মহরের শর্তে মদ বা শূকরের মাংকের মতো কিছু নির্ধারণ করা হয়, তবে তা বাতিল বলে গণ্য হবে, এবং প্রচলিত মহর (মহরে মিথল) নির্ধারিত হবে।
আয়াতটি ইঙ্গিত করে যে, কোনো নারীর ইসলামীভাবে বৈধ পছন্দে বাধা দিলে, তা ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
🔹 পিতামাতা ও অভিভাবকদের উচিত, সন্তানদের পছন্দকে সম্মান করা, যদি তা ইসলামসম্মত হয়।
🔹 এখানে আল্লাহর নির্দেশ শুধুমাত্র মু’মিনদের জন্য—অর্থাৎ এই বিধান তাদের জন্যই যারা ঈমানদার।
এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় হযরত মু‘কিল বিন ইয়াসার (রাঃ) সম্পর্কে, যিনি তার বোনকে আসিম বিন আদি (রাঃ) এর সঙ্গে পুনরায় বিবাহ করতে বাধা দিয়েছিলেন, যদিও উভয়েই সম্মত ছিল।
🔹 আল্লাহ এ বাধাকে অন্যায় ও হারাম ঘোষণা করেন এই আয়াতের মাধ্যমে।
🔹 শেষাংশে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে: আল্লাহ জানেন, কিন্তু তোমরা জানো না—অর্থাৎ যা আমাদের কঠিন বা অপ্রিয় মনে হয়, তাতে হয়তো হিকমত ও কল্যাণ নিহিত থাকে।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 232 তাফসীর