Transliteration: (Wa masalul lazeena yunfiqoona amwaalahu mubtighaaa'a mardaatil laahi wa tasbeetam min anfusihim kamasali jannatim birabwatin asaabahaa waabilun fa aatat ukulahaa di'faini fa il lam yusibhaa waabilun fatall; wallaahu bimaa ta'maloona Baseer)
আর যারা নিজেদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য [697] এবং নিজের হৃদয়কে দৃঢ় করার জন্য, তাদের দৃষ্টান্ত হলো উঁচু জমির উপর একটি বাগান [698], যেখানে প্রবল বৃষ্টি বর্ষিত হলে তা দ্বিগুণ ফলন দেয়। আর যদি প্রবল বৃষ্টি না-ও হয়, তবে বিছা (হালকা শিশির) যথেষ্ট হয় [699]। আল্লাহ তোমরা যা করো, তা দেখেন [700]।
এই আয়াতে ইঙ্গিত রয়েছে যে, ঈমানদার যেন প্রতিটি উপার্জন থেকে সব সময় ও সব নেক উপলক্ষে ব্যয় করে, শুধু যাকাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে। পোশাক, খাবার, নগদ অর্থ, ফসল, সম্পত্তি ইত্যাদি সবকিছু থেকেই আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা উচিত।
এখান থেকে বোঝা যায়, দান ও নেক আমলের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভর করে। এ জন্যই, আমাদের পাহাড় পরিমাণ দানও সাহাবায়ে কেরামের এক সের গমের সমান হতে পারে না, কারণ তাদের খাঁটি নিয়ত আমাদের চেয়ে অনেক বেশি। তেমনি, আল্লাহওয়ালা অভাবীর চেয়ে গোনাহগার ভিখারিকে দান করলে সওয়াব কম হতে পারে। যেমন: ফসল মাটির গুণের ওপর নির্ভর করে— তেমনি দানও প্রাপকের মান অনুযায়ী।
“বিছা যথেষ্ট হয়”— অর্থাৎ, উঁচু ও উর্বর জমিতে বেশি বৃষ্টি না হলেও ভালো ফসল হয়। তেমনি, ঈমানদারের দান বড় হোক বা ছোট, যদি নিয়ত বিশুদ্ধ হয়, তাহলেও সে পুরস্কার পায়। আল্লাহ সম্পদের পরিমাণ দেখেন না, বরং হৃদয়ের অবস্থা দেখেন।
যেমন উর্বর জমি বেশি ফসল দেয়, তেমনি কিছু পবিত্র স্থান ও সময়েও নেক আমলের সওয়াব বেশি হয়। যেমন: মসজিদে নববীতে একটি আমলের সওয়াব পঞ্চাশ হাজার গুণ। এটা প্রমাণ করে, আল্লাহ শুধু আমল দেখেন না, বরং স্থান, সময় ও নিয়তের ভিত্তিতে বাড়তি পুরস্কারও দিয়ে থাকেন।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 265 তাফসীর