কুরআন - 2:272 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

272
۞لَّيۡسَ عَلَيۡكَ هُدَىٰهُمۡ وَلَٰكِنَّ ٱللَّهَ يَهۡدِي مَن يَشَآءُۗ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَلِأَنفُسِكُمۡۚ وَمَا تُنفِقُونَ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ وَجۡهِ ٱللَّهِۚ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ يُوَفَّ إِلَيۡكُمۡ وَأَنتُمۡ لَا تُظۡلَمُونَ

Transliteration: (Laisa 'alaika hudaahum wa laakinnal laaha yahdee mai yashaaa'; wa maa tunfiqoo min khairin fali anfusikum; wa maa tunfiqoona illab tighaaa'a wajhil laah; wa maa tunfiqoo min khairiny yuwaffa ilaikum wa antum laa tuzlamoon)

অনুবাদ -

(হে প্রিয় নবী!) তাদের সৎপথে আনা তোমার দায়িত্ব নয় [715], বরং আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সৎপথে চালান [716]। আর তোমরা যা কিছু ভালো ব্যয় কর, তা নিজেদেরই জন্য [717]। এবং তোমরা ব্যয় করো শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে [718]। আর তোমরা যা কিছু ভালো ব্যয় করবে, তা তোমাদেরকে পূর্ণভাবে ফিরিয়ে দেওয়া হবে। এবং তোমাদের প্রতি কিছুই অন্যায় করা হবে না [719]।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 272 তাফসীর




📖 সূরা আল-বাকারা - আয়াত [272] এর ব্যাখ্যা

 

✅ [715] সৎপথে আনা নবীর দায়িত্ব নয়

আল্লাহ স্পষ্ট করে বললেন: হে আমার প্রিয় নবী, তাদের হিদায়াত পাওয়ার দায়িত্ব আপনার নয়, এবং তারা ঈমান না আনলে আপনাকে তার জবাবদিহি করতে হবে না। এখান থেকে আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝি: মানুষের ঈমান আনা বা না আনা নবীর মর্যাদাকে কোনোভাবে বাড়ায় বা কমায় না।

🔸 উদাহরণ: কেউ সূর্যের আলোকে অস্বীকার করলেই সূর্য কি নিভে যায়? ঠিক তেমনি, নবী ﷺ-এর মর্যাদা ঈমানদার বা কাফিরদের অবস্থান দ্বারা প্রভাবিত হয় না।

✅ [716] হিদায়াত কেবল আল্লাহর ইচ্ছায় হয়

এই অংশটি বোঝায়, সত্যিকার হিদায়াত কেবল আল্লাহর ইচ্ছায় প্রদান করা হয়; শুধুমাত্র প্রেম বা আত্মীয়তার সম্পর্ক যথেষ্ট নয়। আল্লাহ তো সব সৃষ্টিকে ভালোবাসেন, কিন্তু সেই ভালোবাসা ঈমানের গ্যারান্টি নয়।

🔸 যদি ভালোবাসা যথেষ্ট হতো, তবে মূর্তিপূজকরাও হিদায়াত পেত, যেহেতু আল্লাহ তাদেরও রিজিক দিয়েছেন ও নবি পাঠিয়েছেন।

✅ [717] দান প্রথমত দাতারই উপকারে আসে

এই অংশ থেকে বোঝা যায়, তোমরা যখন ভালো জিনিস থেকে ব্যয় কর, তখন তা তোমাদের আত্মার উন্নতি ও আখিরাতে সফলতার জন্য। কখনো গরীবদের প্রতি অবজ্ঞা বা বোঝা ভাবা উচিত নয়, বরং এটা নিজেরই উপকারে আসে।

✅ [718] দানের উদ্দেশ্য আল্লাহর সন্তুষ্টি হওয়া উচিত

দান যদিও কখনো ওলিদের নামে করা হয়, তবে উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর সন্তুষ্টি। পরকালীন প্রতিদান কারো নামে উৎসর্গ করা যায়, যেমন সাহাবি হযরত সা'দ (রা.) একটি কূপ খুলে বলেছিলেন: “এর সওয়াব সা'দের মায়ের জন্য।”

🔸 তবে তা তখনই বৈধ, যখন ইখলাস সহকারে আল্লাহর জন্যই করা হয়।

✅ [719] আল্লাহ কখনো কারও প্রতি অন্যায় করেন না

আল্লাহ নিশ্চয়তা দেন, তোমরা যা কিছু ভালো ব্যয় করবে, তা পূর্ণরূপে প্রতিদান দেওয়া হবে। কোনোভাবেই কমিয়ে দেওয়া হবে না।

🔸 বরং আল্লাহ বলেন: “যারা ব্যয় করে তাদের উদাহরণ…” (সূরা আল-বাকারা ২:২৬১), যার দ্বারা বোঝানো হয়, পুরস্কার বহু গুণে বাড়তেও পারে।
এখানে ‘অন্যায় হবে না’ বলা মানেই কম দেওয়া নয়— বরং আল্লাহর কৃপায় আরও বেশি দেওয়া হতে পারে।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now