Transliteration: (Lilfuqaraaa'il lazeena uhsiroo fee sabeelil laahi laa yastatee'oona darban fil ardi yah sabuhumul jaahilu aghniyaaa'a minat ta'affufi ta'rifuhum biseemaahum laa yas'aloonan naasa ilhaafaa; wa maa tunfiqoo min khairin fa innal laaha bihee 'Aleem)
যারা ভিক্ষা করে [720], অথচ তারা আল্লাহর পথে আটকে আছে [721]; তারা পৃথিবীতে চলাফেরা করতে পারে না [722]। অজ্ঞ লোক তাদের অবস্থা না জেনে তাদের ধনী মনে করে, কারণ তারা নিজেদের সঙ্কোচ প্রকাশ করে না। তুমি তাদের চেনবে তাদের চেহারার লক্ষণ দ্বারা [723]; তারা লোকদের কাছে বারবার ভিক্ষা চায় না [724]। আর তোমরা যা কিছু দান করো, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা জানেন।
যে দান ফরজ, যেমন যাকাত, তা কেবল গরিবদের জন্য নির্ধারিত; ধনীদের দেওয়া বৈধ নয়। আর যে দান অতিরিক্ত (সাধারণ), তা গরিবদের দেওয়া উত্তম, যদিও চলমান সদকা (যেমন কূপ, কবরস্থান, মসজিদ ইত্যাদি) ধনী-গরিব নির্বিশেষে সকলেই এর উপকার পায়। এ আয়াত আমাদের শিক্ষা দেয়—লজ্জাশীল ভিক্ষুককে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত, সেই ব্যক্তির তুলনায় যে নির্লজ্জভাবে ভিক্ষা করে।
এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত দীনী ছাত্র ও আলেমগণ, যারা আল্লাহর পথে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন। তারা জীবিকা অর্জনের সময় পান না, কারণ তারা পুরোপুরি ইলম চর্চা ও শিক্ষা-তে নিয়োজিত। এ আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, ধর্মীয় খেদমতের সাথে যুক্ত ব্যক্তিরাও দানের হকদার।
“তারা পৃথিবীতে চলাফেরা করতে পারে না”—এর মানে হলো, যদি তারা জীবিকার খোঁজে বের হয়, তবে তাদের দ্বীনি কাজ বাধাগ্রস্ত হবে। এই আয়াত থেকে বোঝা যায়—যারা সম্পূর্ণরূপে দীনী সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন, যেমন আসহাবে সুফফা, তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া মুসলিম সমাজের দায়িত্ব। তাঁরা ইচ্ছা করেই দুনিয়াবি জীবন ত্যাগ করে নবীজি ﷺ এর সাহচর্যে থেকেছেন। তারা যদি উপার্জনে নিয়োজিত হতেন, তাহলে ইসলামী জ্ঞান চর্চা বন্ধ হয়ে যেত।
এই জন্যই ইসলামী খেদমতের বিনিময়ে বেতন গ্রহণ বৈধ। যেমন:
চার খলিফার মধ্যে শুধু হযরত উসমান (রা.) ব্যতিক্রম, বাকি তিনজনই তাদের খিলাফতকালীন দায়িত্ব পালনের জন্য বেতন গ্রহণ করেছিলেন, যদিও খিলাফত নিজেই একটি দ্বীনি দায়িত্ব।
এ শ্রেণির মানুষ নিজেদের দরিদ্রতা প্রকাশ করে না, তবে তাদের চেহারার অবস্থা নিজেই তা বলে দেয়। যেমন:
তাদের এই দীন দশা কোনো অলসতা নয়, বরং দ্বীনের প্রতি একাগ্রতার ফল। তারা মুখে কিছু না বললেও, তাদের চেহারাই সাক্ষ্য দেয়—তারা প্রকৃতই সাহায্যের যোগ্য।
আয়াতের ভাষা অত্যন্ত সূক্ষ্ম। এখানে “বারবার ভিক্ষা করে না” বলা হয়নি, বরং ভিক্ষা করেই না—এটাই বোঝানো হয়েছে। তারা একবারও চায় না, কারণ তাদের মাঝে রয়েছে আত্মমর্যাদা, ঈমান ও ধৈর্য। এ থেকেই বোঝা যায়—যারা চাহিদা থাকা সত্ত্বেও চায় না, তারাই আসলে দানের সবচেয়ে যোগ্য।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 273 তাফসীর