Transliteration: (Yaaa ayyuhal lazeena aamanut taqul laaha wa zaroo maa baqiya minar ribaaa in kuntum mu'mineen)
হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো [740] এবং সুদের যা কিছু বাকি আছে, তা ছেড়ে দাও [741], যদি তোমরা মুমিন হয়ে থাকো [742]।
এই অংশ থেকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়: তাকওয়া—অর্থাৎ আল্লাহভীতির মাধ্যমে তাঁর অসন্তুষ্টিকর বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা—হোক একজন মুমিনের চূড়ান্ত লক্ষ্য। তবে তাকওয়ার ভিত্তি হলো ঈমান। যেমন ওযু ছাড়া সালাত শুদ্ধ নয়, তেমনি ঈমান ছাড়া তাকওয়ারও কোন ভিত্তি থাকে না।
সুদের নিষেধাজ্ঞার পর, যদি কোনো দেনাদারের উপর কিছু সুদ বাকি থেকে যায়, তবে তা আর দাবি করা যাবে না। শুধু ভবিষ্যতের জন্য নয়, পূর্ববর্তী সুদের দাবিও এখান থেকে পরিত্যাজ্য। একই রকম অন্য বিধানও শরিয়তে রয়েছে: যেমন কেউ ইসলাম গ্রহণ করার আগে সুদের লেনদেন করলেও ইসলাম গ্রহণের পর তা থেকে মুক্ত; আবার কেউ ইসলাম গ্রহণ করার সময় তার স্ত্রী ছয় বা সাতজন থাকলে, এখন সে চারজন রাখবে ও বাকিদের আলাদা করবে। এসব উদাহরণ থেকে বোঝা যায় যে, ইসলাম পূর্ববর্তী কাজকে ক্ষমা করে দেয় এবং এই আয়াত থেকে এ ধরনের ফিকহি মাসআলাগুলোর ভিত্তি পাওয়া যায়।
এই আয়াত স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে সুদভিত্তিক লেনদেন কুফরী আচরণ, যা প্রকৃত ঈমানদারদের শোভা পায় না। এমনকি কোনো অবিশ্বাসীর ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক প্রথা অনুকরণ করাও ইসলামসম্মত নয়, বিশেষত যদি তা ধর্মীয় শ্রদ্ধাভরে করা হয়। যেমন: হিন্দুদের মত গলায় রুদ্রাক্ষ পরা, মাথার মাঝখানে একগোছা চুল রেখে দেওয়া, খ্রিষ্টানদের মতো ক্রুশের সামনে নত হওয়া ইত্যাদি। তাই সুদ পরিহার শুধু আর্থিক সংস্কার নয়—এটা একজন মুমিনের আসল ঈমান ও তাকওয়ার পরীক্ষা।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 278 তাফসীর