Transliteration: (Huwal lazee khalaqa lakum maa fil ardi jamee'an summas tawaaa ilas samaaa'i fasaw waahunna sab'a samaa waat; wa Huwa bikulli shai'in Aleem)
তিনিই তো সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন [56]। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দেন এবং তা সাত আকাশে পরিণত করেন [57]। আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
তিনিই তো সেই সত্তা যিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে সব সৃষ্টি করেছেন [56]। অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দেন এবং তা সাত আকাশে পরিণত করেন [57]। আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন।
এই আয়াতটি ইঙ্গিত করে যে, পৃথিবীর সকল কিছু মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। এটি ইসলামী শরিয়তের একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিকে স্পষ্ট করে—যে সবকিছু মূলত হালাল, যতক্ষণ না তা আল্লাহ বা তাঁর প্রিয় নবী ﷺ কর্তৃক হারাম ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ, কোনো বস্তু নিষিদ্ধ প্রমাণ করতে দলীল প্রয়োজন, হালাল প্রমাণে নয়।
এমনকি হারাম বস্তু—যেমন শূকর—তাও একজন মু’মিনের কাছে তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ সে তা খায় না আল্লাহর আদেশ মান্য করে। এই পরিহার করাও সওয়াবের কাজ হয়ে যায়। নিষিদ্ধ জিনিস বর্জন করা আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাধ্যম হয়ে ওঠে।
আয়াতে বলা হয়েছে: “অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দেন”, এখানে “অতঃপর” শব্দটি ঘটনার ক্রম বোঝানোর জন্য নয়, বরং বর্ণনার ক্রম প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে আকাশ আগে সৃষ্টি হয়েছিল, যেমন সূরা আন-নাযিয়াআতে (৭৯:৩০) বলা হয়েছে: “এরপর তিনি পৃথিবীকে বিস্তৃত করলেন”।
তবুও এখানে পৃথিবীকে আগে বলা হয়েছে, কারণ এর তাৎপর্য ও কার্যকারিতা বেশি: পৃথিবীকে তৈরি করা হয়েছে মানুষের জন্য, জীবজন্তু ও উদ্ভিদের জন্য। এখানেই নবীদের আগমন হয়েছে, এখানেই ওহি নাজিল হয়েছে, এবং এখানেই ইবাদত ও পরীক্ষা হয়। তাই সৃষ্টি কালের হিসেবে নয়, বরং গুরুত্বের ভিত্তিতে পৃথিবীর উল্লেখ আগে করা হয়েছে।
আয়াতের শেষাংশে বলা হয়েছে: “আর তিনি সবকিছু সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান রাখেন”—এটি প্রমাণ করে যে আল্লাহর সৃষ্টি নির্ভুল, জ্ঞানপূর্ণ ও হিকমতপূর্ণ।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 29 তাফসীর