Transliteration: (Wa qulnaa yaaa Aadamus kun anta wa zawjukal jannata wa kulaa minhaa raghadan haisu shi'tumaa wa laa taqrabaa haazihish shajarata fatakoonaa minaz zaalimeen)
আর আমি বললাম: হে আদম, আপনি ও আপনার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করুন [68] এবং সেখান থেকে ইচ্ছামতো প্রচুর ভক্ষণ করুন, কিন্তু এই গাছটির কাছে যাবেন না [69], তা না হলে জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বেন [70]।
আর আমি বললাম: হে আদম, আপনি ও আপনার স্ত্রী জান্নাতে বসবাস করুন [68] এবং সেখান থেকে ইচ্ছামতো প্রচুর ভক্ষণ করুন, কিন্তু এই গাছটির কাছে যাবেন না [69], তা না হলে জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বেন [70]।
এই নির্দেশ থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বোঝা যায়: জান্নাত আগেই বিদ্যমান ছিল, এবং তার ফল-মূল ও নেয়ামতসমূহ কিয়ামতের আগে থেকেই সুলভ ছিল। হযরত আদম (আ.)-এর জান্নাতে অবস্থান পুরস্কারস্বরূপ ছিল না, বরং ছিল একটি প্রশিক্ষণপর্ব, কারণ তাঁকে পৃথিবীতে আল্লাহর প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো নির্ধারিত ছিল। জান্নাতে ফেরেশতাদের সান্নিধ্যে থেকে তিনি একটি নতুন জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। এই পর্বে তাঁর স্ত্রী ছিলেন শুধু বিবি হাওয়া (আ.), কোনো হুর ছিল না। তাঁর জান্নাতে থাকা স্থায়ী ছিল না, বরং পৃথিবীতে প্রেরণের পূর্বে এটি ছিল একটি অস্থায়ী অধ্যায়। সুতরাং এটি চিরস্থায়ী পুরস্কারের জান্নাত নয়, বরং ধর্মীয় দায়িত্ব পালনের পূর্ববর্তী এক প্রস্তুতিমূলক অভিজ্ঞতা।
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর আদেশ, ইচ্ছা ও অনুমোদনের পার্থক্য স্পষ্ট হয়: আদেশ ছিল পরিষ্কার—এই গাছের কাছে যেয়ো না। কিন্তু আসল ইচ্ছা ছিল হযরত আদম (আ.)-এর সেই গাছ থেকে খাওয়া, যেন তিনি পৃথিবীতে নেমে আসেন এবং খিলাফতের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়। অনুমোদন ছিল এই ফলাফলের মধ্যে, যা পূর্ব নির্ধারিত ছিল। যেহেতু হযরত আদম (আ.) তখন শরীয়তের আওতাভুক্ত ছিলেন না, বরং জান্নাতে একজন অতিথি হিসেবে ছিলেন, তাই এই আদেশ ছিল পরীক্ষামূলক, বিধানিক নয়।
এখানে “জালেম” শব্দটি শিরক বা গুরুতর অন্যায়ের অর্থে নয়, বরং একটি ভুল বা ত্রুটির অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কোনো নবীকে “জালেম” বলা অন্যায় বা কুফরি, কেননা এটি নবীদের মর্যাদা ও নিষ্পাপ অবস্থার পরিপন্থী। যদি কোনো নবী নিজেকে এভাবে বলেন, তা হয় বিনয় ও আত্ম-নম্রতার প্রকাশ। আর আল্লাহ যদি বলেন, সেটি হয় মালিক ও রব হিসেবে তাঁর ভাষার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু সাধারণ মানুষের পক্ষে নবীদের জন্য এমন শব্দ ব্যবহার নিষিদ্ধ, কারণ এটি তাদের সম্মানহানিকর।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আল-বাকারা আয়াত 35 তাফসীর