কুরআন - 3:118 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

118
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ لَا تَتَّخِذُواْ بِطَانَةٗ مِّن دُونِكُمۡ لَا يَأۡلُونَكُمۡ خَبَالٗا وَدُّواْ مَا عَنِتُّمۡ قَدۡ بَدَتِ ٱلۡبَغۡضَآءُ مِنۡ أَفۡوَٰهِهِمۡ وَمَا تُخۡفِي صُدُورُهُمۡ أَكۡبَرُۚ قَدۡ بَيَّنَّا لَكُمُ ٱلۡأٓيَٰتِۖ إِن كُنتُمۡ تَعۡقِلُونَ

Transliteration: (Yaaa ayyuhal lazeena aamanoo laa tattakhizoo bitaanatam min doonikum laa ya'loonakum khabaalanw waddoo maa 'anittum qad badatil baghdaaa'u min afwaahihim; wa maa tukhfee sudooruhum akbar; qad baiyannaa lakumul Aayaati in kuntum ta'qiloon)

অনুবাদ -

হে মুমিনগণ! [258] তোমরা বাইরের লোকদেরকে অন্তরঙ্গ বিশ্বস্ত বানিও না [259]; তারা তোমাদের ক্ষতি করার ব্যাপারে কোনো ফাঁক রাখবে না। তারা চায়, যেন তোমরা কষ্টে পড়ো। তাদের মুখের কথাতেই শত্রুতা প্রকাশ পায় [260], আর তাদের অন্তরে যা লুকানো রয়েছে, তা আরও ভয়াবহ। আমি তো তোমাদের জন্য নিদর্শনসমূহ সুস্পষ্ট করে দিয়েছি, যদি তোমরা বুঝতে চাও।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 118 তাফসীর




📖 সূরা আলে ইমরান – আয়াত ১১৮ এর ব্যাখ্যা

 

✅ [258] এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার কারণ

কিছু মুসলমান ছিল যারা ইহুদিদের সঙ্গে রক্তসম্পর্ক বা প্রতিবেশীসুলভ আচরণের কারণে ভালো সম্পর্ক রাখত। এই আয়াত সেই আচরণকে অস্বীকার করার জন্য অবতীর্ণ হয়। এখান থেকে বোঝা যায়, অবিশ্বাসীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়া, তাদের দাওয়াত গ্রহণ, উপহার বিনিময় বা মৈত্রীপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হারাম। বাস্তব অভিজ্ঞতাও প্রমাণ করে যে, মুসলমানরা সবসময় এমন বন্ধুত্ব থেকে প্রতারণার শিকার হয়েছে।

✅ [259] অবিশ্বাসীদের ওপর আস্থা রাখার বিপদ

এখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায় যে, মুসলিম শাসক ও রাজারা কখনোই অবিশ্বাসীদেরকে প্রধান পদে নিযুক্ত করা উচিত নয় — যেমন: প্রধান উপদেষ্টা, প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্র মন্ত্রী। তা না হলে বিশ্বাসঘাতকতার দরজা খুলে যেতে পারে। তেমনি অবিশ্বাসীদেরকে ব্যক্তিগত বিশ্বাসভাজন বানানোও ঠিক নয় — এমনকি স্ত্রীরূপে যদি কেউ ইহুদি বা খ্রিস্টান হন, তবুও ব্যক্তিগত গোপন তথ্য তাকে জানানো অনুচিত, কারণ সে স্বামীকে বিশ্বাসঘাতকতা করতে পারে। এখান থেকে এটাও স্পষ্ট হয় যে, একজন অবিশ্বাসী কখনোই একজন মুমিনের প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী হতে পারে না।

✅ [260] ভুয়া বন্ধুত্বের পেছনে লুকানো শত্রুতা

অবিশ্বাসীরা হয়তো বাহ্যিকভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ করে, কিন্তু কখনো কখনো তাদের মুখ ফসকে তাদের প্রকৃত মনোভাব প্রকাশ পেয়ে যায় — তখন বোঝা যায়, তাদের অন্তরে কতটা ঘৃণা ও শত্রুতা জমে আছে। তাদের অন্তরের বিদ্বেষ আগুনের মতো জ্বলছে, যা তারা প্রকাশ করে তার চেয়ে বহু গুণ বেশি। আল্লাহ যা “মহান” বলেছেন, সেটাকে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। যেহেতু আল্লাহ সকল সৃষ্টির স্রষ্টা, তাই তিনিই তাদের মনোভাব সবচেয়ে ভালোভাবে জানেন। তাই এই সতর্কতা সমস্ত অবিশ্বাসীর জন্য প্রযোজ্য, যেমনটি আয়াতে “বাইরের লোক” শব্দে বোঝানো হয়েছে।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now