Transliteration: (Wa iz ghadawta min ahlika tubawwi'ul mu'mineena maqaa'ida lilqitaal; wallaahu samee'un 'aleem)
আর যখন তুমি (হে প্রিয় নবী মুহাম্মাদ ﷺ) সকাল বেলা তোমার ঘর থেকে বের হলে [266] মুসলমানদের যুদ্ধের জন্য তাদের অবস্থান নির্ধারণ করতে, আর আল্লাহ সবকিছু শ্রবণকারী, সবজ্ঞানী [267]।
এই আয়াত প্রমাণ করে যে, হযরত আয়েশা (রাযি.) নবীজি ﷺ এর পরিবারভুক্ত, কারণ এই সকালে নবীজি ﷺ তাঁরই ঘর থেকে বের হয়েছিলেন। আল্লাহ তায়ালা এটিকে নবীজি ﷺ এর ঘর হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা স্পষ্টভাবে হযরত আয়েশা রাযি. এর “আহল” অর্থাৎ স্ত্রী হওয়া নিশ্চিত করে। একইভাবে কুরআনে হযরত মূসা (আ.) সম্পর্কেও বলা হয়েছে: “তখন সে তার স্ত্রীকে বলল, অপেক্ষা করো” (সূরা ত্বোয়া-হা, আয়াত ১০)। সেই আয়াতেও “আহল” শব্দটি দ্বারা স্ত্রী বোঝানো হয়েছে।
এই আয়াতের মাধ্যমে উহুদের যুদ্ধের দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে, যা হিজরতের তৃতীয় বর্ষে মদীনার তিন মাইল দূরে উহুদের প্রান্তরে সংঘটিত হয়। বদরের যুদ্ধে পরাজয়ের বদলা নিতে কুরাইশরা রাগে উন্মত্ত হয়ে মদীনার ওপর আক্রমণের প্রস্তুতি নেয়। ৩য় হিজরির শাওয়ালের মাঝামাঝি সময়ে তারা আক্রমণ চালায়। এ সংবাদ নবীজি ﷺ এর কাছে পৌঁছালে তিনি সাহাবায়ে কিরামের সঙ্গে পরামর্শ করেন।
মুনাফিক আবদুল্লাহ ইবনে উবাই-সহ কিছু সাহাবি শহরের ভেতর থেকেই রক্ষা করার মতামত দেন, যা নবীজি ﷺ এর নিজের মতও ছিল। তবে কিছু তরুণ সাহাবি উৎসাহে যুদ্ধের ময়দানে বের হওয়ার কথা বলেন — শেষ পর্যন্ত তাদের মতই গ্রহণ করা হয়। ১০ শাওয়াল তারিখে নবীজি ﷺ সাহাবিদের নিয়ে বের হন। কিন্তু তাঁর মতামত গৃহীত না হওয়ায় আবদুল্লাহ ইবনে উবাই রাগ করে ৩০০ সঙ্গীসহ যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে যান, ফলে কেবল ৭০০ মুসলিম সৈন্য থেকে যায়।
যুদ্ধ শুরুর আগে নবীজি ﷺ হযরত আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রাযি.)-এর নেতৃত্বে ৫০ জন তীরন্দাজকে উহুদের গিরিপথে মোতায়েন করেন, যেন পেছনের দিক থেকে শত্রুর আক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।
প্রথমে মুসলমানরা বড় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে যায়, শত্রুরা পালাতে শুরু করে। কিন্তু যুদ্ধ শেষ মনে করে তীরন্দাজেরা, আবদুল্লাহ ইবনে জুবাইরের বারবার নিষেধ সত্ত্বেও, লুটের উদ্দেশ্যে অবস্থান ত্যাগ করে। এই সুযোগে শত্রুরা পেছন থেকে আক্রমণ চালিয়ে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ উল্টে দেয়।
এখান থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়:
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আলে ইমরান আয়াত 121 তাফসীর