Transliteration: (Wa maa Muhammadun illaa Rasoolun qad khalat min qablihir Rusul; afa'im maata aw qutilan qalabtum 'alaaa a'qaabikum; wa mai yanqalib 'alaa aqibaihi falai yadurral laaha shai'aa; wa sayajzil laahush shaakireen)
মুহাম্মদ তো কেবল একজন রাসূল [304]; তাঁর পূর্বেও বহু রাসূল অতিবাহিত হয়েছেন [305]। তবে কি তিনি মারা গেলে অথবা নিহত হলে, তোমরা পেছনে ফিরে যাবে [306]? আর যে কেউ ফিরে যায়, সে কখনোই আল্লাহর কোনো ক্ষতি করতে পারবে না [307]; আর আল্লাহ কৃতজ্ঞদের প্রতিদান দিবেন [308]।
এই আয়াতে "কেবল রাসূল" বলার অর্থ হলো—তিনি আল্লাহ নন, বরং আল্লাহর প্রেরিত একজন রাসূল। চিরস্থায়িত্ব একমাত্র আল্লাহর গুণ। তবে এ কথা তাঁর অনন্য বৈশিষ্ট্য ও মহান মর্যাদা অস্বীকার করে না। তিনি গুনাহগারদের জন্য সুপারিশকারী, সারা জগতের জন্য রহমত এবং এমন বহু আল্লাহপ্রদত্ত গুণাবলির অধিকারী, যা মানুষের কল্পনার ঊর্ধ্বে।
আয়াতটি স্মরণ করিয়ে দেয়, অনেক নবী এর আগেও এসেছেন—কেউ ইন্তেকাল করেছেন, আবার কেউ যেমন ইদ্রিস, ঈসা, ইলিয়াস, খিজর (আঃ)—তাঁরা এখনো আল্লাহর হুকুমে জীবিত আছেন। তাই আয়াতে আল্লাহ “মৃত্যু” শব্দটি ব্যবহার করেননি। ফলে, হযরত ঈসা (আঃ)-এর মৃত্যু প্রমাণে এই আয়াত দলিল হিসেবে অপ্রযোজ্য।
“পেছনে ফিরে যাওয়া” বলতে বোঝানো হয়েছে ইসলাম ত্যাগ। উহুদের যুদ্ধে যখন রাসূল ﷺ শহীদ হয়েছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে, তখন মুনাফিকরা নতুন মুসলিমদের বিভ্রান্ত করতে চায়। এই আয়াতে আল্লাহ তা’আলা এমন ধারণাকে খণ্ডন করেছেন—রাসূল ﷺ-কে যদি কিছু হয়, তবুও দ্বীন ইসলাম অবিচল।
এই অংশটি বোঝায়—ইসলাম কোনো ব্যক্তিনির্ভর নয়। বরং সব সৃষ্টিই ইসলামের মুখাপেক্ষী, ইসলাম কারো মুখাপেক্ষী নয়। ইতিহাসও প্রমাণ—মক্কার নেতারা ইসলাম অস্বীকার করলে, মদীনার সাধারণ ও আন্তরিক মানুষরাই দ্বীনের স্তম্ভ হয়ে ওঠেন। আয়াত ইঙ্গিত দেয়—তুমি না চাইলেও, সাধারণ কাউকে আল্লাহ বড় করে তুলতে পারেন।
এই আয়াতের "কৃতজ্ঞ" বলতে বোঝানো হয়েছে—উহুদের যুদ্ধে যারা দৃঢ়তা ও ধৈর্য বজায় রেখেছিলেন, তারা সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী। এমনকি যারা সাময়িকভাবে পিছিয়ে গিয়েছিলেন, আল্লাহ পরে তাদের ক্ষমা করেছেন। সুতরাং, সমস্ত সাহাবাই আল্লাহর প্রিয়, যদিও তাঁদের মর্যাদা ও আত্মত্যাগ ভেদে স্তরভেদ রয়েছে।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আলে ইমরান আয়াত 144 তাফসীর