Transliteration: (Qul a'unabbi 'ukum bikhairim min zaalikum; lillazeenat taqaw 'inda Rabbihim jannaatun tajree min tahtihal anhaaru khaalideena feehaa wa azwaajum mutahharatunw wa ridwaanum minal laah; wallaahu baseerum bil'ibaad)
বলুন (হে প্রিয় নবী): “তোমাদের কি আমি এমন কিছু জানাই, যা এর চেয়ে উত্তম? তাদের জন্য, যারা তাকওয়া অবলম্বন করে, তাদের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে জান্নাতসমূহ [29], যেগুলোর নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয় নদীসমূহ [30]; সেখানে তারা চিরকাল থাকবে, থাকবে পবিত্র স্ত্রীরা [31] এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি [32]; নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দেখতে পান।
এই আয়াতে জান্নাত শুধুমাত্র আল্লাহভীরুদের জন্য নির্ধারিত, যা স্পষ্টভাবে বোঝানো হয়েছে “যারা তাকওয়া অবলম্বন করে” বাক্যাংশের মাধ্যমে। ‘জান্নাতসমূহ’ শব্দের বহুবচন রূপ ইঙ্গিত করে, প্রত্যেক মুত্তাকীকে আলাদা আলাদা পর্যায়ের বা প্রকারের বহু জান্নাত দান করা হবে, যা তার আমলের পরিপূর্ণ প্রতিদান।
‘নদীসমূহ প্রবাহিত হয়’ বাক্যাংশটি জান্নাতের সৌন্দর্য ও সুশৃঙ্খলতার প্রতি ইঙ্গিত করে। কুরআনের অন্যান্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে— এসব নদী পানির, দুধের, মধুর ও বিশেষ পানীয়র। নদীসমূহ শান্ত, উপকারী ও নিয়ন্ত্রিত— যা জান্নাতের শান্তিপূর্ণ ও টেকসই পরিবেশকে উপস্থাপন করে। রাজপ্রাসাদ বা উদ্যানের নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত হওয়াই সৌন্দর্যের প্রকৃষ্ট রূপ।
জান্নাতে মুমিনদের জন্য থাকবে পবিত্র স্ত্রীরা, যাঁরা হবেন দুনিয়ার সকল অপূর্ণতা থেকে মুক্ত। এদের মধ্যে থাকবেন:
এদের কারো মধ্যেই ঋতুস্রাব, রোগব্যাধি বা কোন অপবিত্রতা থাকবে না। তারা হবে চিরন্তন আনন্দ ও প্রশান্তির উৎস। যেমন, ফেরাউনের স্ত্রী সাইয়্যিদা আসিয়া (রাঃ)— যিনি জান্নাতে নবী করিম ﷺ-এর স্ত্রী হবেন।
জান্নাতের সর্বোচ্চ পুরস্কার হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি, যা সমস্ত বাগান, পানীয় ও সঙ্গিনীদের থেকেও শ্রেষ্ঠ। যখন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের উপর চিরকাল সন্তুষ্ট থাকবেন, তখন আর কখনো অসন্তুষ্টি আসবে না। এটাই মুত্তাকীদের চূড়ান্ত সাফল্য ও প্রকৃত পুরস্কার। আয়াতের শেষে বলা হয়েছে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের দেখেন— অর্থাৎ, বান্দার প্রতিটি কষ্ট, চেষ্টা ও আন্তরিকতা আল্লাহর দৃষ্টিতে রয়েছে এবং তার ন্যায্য প্রতিদান অবশ্যই দেওয়া হবে।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আলে ইমরান আয়াত 15 তাফসীর