Transliteration: (Wa laa yahzunkal lazeena yusaari'oona fil Kufr; innahum lai yadurrul laaha shai'aa; yureedul laahu allaa yaj'ala lahum hazzan fil Aakhirati wa lahum 'azaabun 'azeem)
এবং (হে প্রিয় নবী) আপনি তাদের জন্য মোটেও দুঃখিত হবেন না যারা কুফরির পেছনে ছোটে [397]। তারা আল্লাহর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না [398]। আল্লাহ চায় না যে তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ থাকুক, এবং তাদের জন্য রয়েছে মহা শাস্তি [399]।
এই আয়াতে প্রিয় নবী ﷺ-কে সান্ত্বনা দিয়ে বলা হচ্ছে—যারা কুফরির পথে ছুটছে, তাদের নিয়ে কষ্ট পাওয়ার কিছু নেই। এতে ইহুদি, খ্রিস্টান, মুনাফিক ও ধর্মত্যাগীরা অন্তর্ভুক্ত। তারা যদি সমস্ত সম্পদ, কৌশল ও বাহিনী একত্র করেও চেষ্টা করে, তবুও রাসূল ﷺ-কে ক্ষতি করতে পারবে না। ইতিহাসে এর বাস্তব প্রমাণ আছে, যেমন ইয়ামুক যুদ্ধে ৪০ হাজার সাহাবী ৭ লক্ষ কাফির বাহিনীকে পরাজিত করেছিলেন। বিজয় নির্ধারিত আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর তা রাসূল ﷺ-এর জন্যই।
যদিও আয়াতে বলা হয়েছে "তারা আল্লাহর কিছুই ক্ষতি করতে পারবে না", বাস্তবত এখানে ইঙ্গিত রাসূল ﷺ-এর প্রতি, যা কুরআনের প্রচলিত শৈলীতে বোঝানো হয়। যেমন, কুরআনে বলা হয়েছে: “তারা আল্লাহকে ধোঁকা দিতে চায়”, কিন্তু উদ্দেশ্য হচ্ছে রাসূল ﷺ-কে ধোঁকা দেওয়া—এ থেকেই তাঁর মর্যাদা প্রতিফলিত হয়। অতএব, তাঁকে অপমান করা বা ক্ষতি করার চেষ্টা করা নিজের ধ্বংস ডেকে আনে।
এই আয়াতের শিক্ষা হলো—রাসূল ﷺ-কে অবজ্ঞা বা বিরোধিতা করা মানেই নিজের ক্ষতি করা। তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন; বরং আমাদেরই তাঁর দরকার। আল্লাহ স্পষ্ট করে দিয়েছেন—যারা রাসূলের বিরোধিতা করে, তাদের জন্য পরকালে কোনো অংশ নেই। বরং তাদের জন্য রয়েছে মহাশাস্তি। এই আয়াত থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়—রাসূল ﷺ-এর প্রতি বিরুদ্ধতা দুনিয়ার রহমত থেকে বঞ্চিত করে এবং আখিরাতে ভয়াবহ শাস্তির কারণ হয়।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আলে ইমরান আয়াত 176 তাফসীর