কুরআন - 3:186 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

186
۞لَتُبۡلَوُنَّ فِيٓ أَمۡوَٰلِكُمۡ وَأَنفُسِكُمۡ وَلَتَسۡمَعُنَّ مِنَ ٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلِكُمۡ وَمِنَ ٱلَّذِينَ أَشۡرَكُوٓاْ أَذٗى كَثِيرٗاۚ وَإِن تَصۡبِرُواْ وَتَتَّقُواْ فَإِنَّ ذَٰلِكَ مِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ

Transliteration: (Latublawunna feee amwaalikum wa anfusikum wa latasma'unna minal lazeena ootul Kitaaba min qablikum wa minal lazeena ashrakooo azan kaseeraa; wa in tasbiroo wa tattaqoo fa inna zaalika min 'azmil umoor)

অনুবাদ -

নিশ্চয়ই তোমাদের ধনসম্পদ ও প্রাণের ব্যাপারে পরীক্ষিত করা হবে [424], আর তোমরা অবশ্যই বহু কটুকথা শুনবে [425] তাদের কাছ থেকে যাদেরকে তোমাদের পূর্বে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং মুশরিকদের পক্ষ থেকেও। কিন্তু যদি তোমরা ধৈর্য ধরো এবং তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে এটাই দৃঢ় সংকল্পের কাজ [426]।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 186 তাফসীর




📖 সূরা আলে ইমরান - আয়াত ১৮৬ এর ব্যাখ্যা

 

✅ [424] ধন-সম্পদ ও প্রাণের পরীক্ষাই নিদ্ধারিত

এই আয়াতটি একদিকে যেমন সতর্কবার্তা, অন্যদিকে সান্ত্বনা। মুমিনদের অবশ্যই পরীক্ষা দেওয়া হবে—ধনসম্পদ হারানোর মাধ্যমে (সম্পদ, উপার্জন, আরাম), এবং প্রাণের ক্ষতির মাধ্যমে (রোগ, দুঃখ, কষ্ট)। জিহাদ ও যাকাতের মতো দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও এমন পরীক্ষা আসবে। আল্লাহ আগে থেকেই জানিয়ে দিচ্ছেন, যেন এই কষ্টগুলো যখন আসে, তখন তারা শক্তি ও প্রস্তুতি নিয়ে সহ্য করতে পারে এবং হতাশ না হয়।

✅ [425] অবিশ্বাসীদের কটুক্তি ও অবমাননা

মুমিনদের সতর্ক করা হয়েছে যে তারা শুনবে বহু আঘাতমূলক ও অবমাননাকর কথা—
আহলে কিতাব (ইহুদি ও খ্রিস্টান) এবং মুশরিকদের পক্ষ থেকে।
এগুলোর মধ্যে থাকবে—
মিথ্যা অভিযোগ, উপহাস, এবং অন্যায় তিরস্কার।
এটি আমাদের শেখায়—প্রত্যেক অবিশ্বাসীর মনে মুমিনদের প্রতি বিদ্বেষ থাকে, তা প্রকাশ্যেই হোক বা গোপনে। তবে প্রতিশোধ নয়, ধৈর্য ধরার নির্দেশ দিয়েছেন আল্লাহ।

✅ [426] ধৈর্য ও মর্যাদাসম্পন্ন আচরণের শক্তি

আয়াতের শেষাংশে রয়েছে শক্তিশালী বার্তা—যদি তোমরা ধৈর্য ধরো ও তাকওয়া অবলম্বন করো, তবে এটাই দৃঢ় সংকল্পের কাজ।
এর দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে—

১. যদি এর অর্থ হয়: তাদের কষ্ট সহ্য করো ও প্রতিশোধ নিও না, তবে তা পরে আসা জিহাদের আয়াত দ্বারা রহিত হতে পারে।

২. আর যদি এর অর্থ হয়: ন্যায়বিচার চাইতে গিয়ে আহলে কিতাবের নবী ও নেককারদের গালি দিও না, তবে এ নির্দেশ স্থায়ী ও অটুট।

সংক্ষেপে, উসকানি এলেও মুসলমানদের উচিত নয় পূর্ববর্তী কোন নবীকে অপমান করা, কারণ তারাও ইসলামে সম্মানিত। প্রকৃত চরিত্রের দৃঢ়তা তখনই প্রকাশ পায়, যখন মুমিন ধৈর্য ও মর্যাদা রক্ষা করে প্রতিক্রিয়া জানায়।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now