Transliteration: (Inna fee khalqis samaawaati wal ardi wakhtilaafil laili wannahaari la Aayaatil liulil albaab)
নিশ্চয়ই আসমান ও পৃথিবীর সৃষ্টি [433] এবং রাত ও দিনের আবর্তনে নিদর্শন রয়েছে বুঝশক্তিসম্পন্ন লোকদের জন্য [434]।
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী করিম ﷺ তাহাজ্জুদে জাগ্রত হয়ে আকাশের দিকে তাকাতেন এবং এই আয়াত থেকে শুরু করে “মী‘আদ” পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন। একবার তিনি বলেছেন, যে এই আয়াতগুলো পড়ে এবং এগুলোর মধ্যে নিহিত হিকমত, আল্লাহর নিয়ম ও জ্ঞান নিয়ে চিন্তা করে না, তা অত্যন্ত আফসোসের বিষয়।
এতে প্রমাণ হয় যে ইসলাম জ্ঞান অনুসন্ধানকে উৎসাহিত করে, যেমন: ভূগোল, জ্যোতির্বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান, যতক্ষণ না তা ইসলামী আকীদার বিরোধী হয়। এমন জ্ঞান অর্জন সাওয়াবের কাজ এবং আত্মিক উৎকর্ষের উপায়। এই বিষয়গুলো শুধু দুনিয়াবি নয়, বরং আল্লাহর মহত্ব উপলব্ধির মাধ্যম।
রাত ও দিনের পরিবর্তন এবং আসমান ও পৃথিবীর সৃষ্টি—এই সবকিছুই আল্লাহর একত্ব, অপরিসীম জ্ঞান ও পরম ক্ষমতার নিদর্শন। এই ঘটনাগুলো আকস্মিক নয়, বরং এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত পরিকল্পিত ব্যবস্থা—যা মানুষের চিন্তা, ঈমান ও দিশা জাগিয়ে তোলে।
এ ছাড়া, রাত-দিনের আবর্তন দেখেই যেমন পরিবর্তন বোঝা যায়, তেমনি সভ্যতার উত্থান-পতনের শিক্ষাও এতে রয়েছে। যেমন দিন আসে রাতের পরে, তেমনি শক্তিশালী জাতিও পতিত হয় এবং দুর্বল জাতি উঠে আসে। এটি মানুষকে নম্রতা শেখায়—কারণ কোনো সাম্রাজ্য স্থায়ী নয়, কোনো মর্যাদা চিরস্থায়ী নয়। দুনিয়ার শক্তিতে গর্ব করা মূর্খতা ও ক্ষণস্থায়ী দম্ভ।
For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.
সূরা আলে ইমরান আয়াত 190 তাফসীর