কুরআন - 3:191 সূরা আলে ইমরান অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

191
ٱلَّذِينَ يَذۡكُرُونَ ٱللَّهَ قِيَٰمٗا وَقُعُودٗا وَعَلَىٰ جُنُوبِهِمۡ وَيَتَفَكَّرُونَ فِي خَلۡقِ ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَٱلۡأَرۡضِ رَبَّنَا مَا خَلَقۡتَ هَٰذَا بَٰطِلٗا سُبۡحَٰنَكَ فَقِنَا عَذَابَ ٱلنَّارِ

Transliteration: (Allazeena yazkuroonal laaha qiyaamanw-wa qu'oodanw-wa 'alaa juno obihim wa yatafakkaroona fee khalqis samaawaati wal ardi Rabbanaa maa khalaqta haaza baatilan Subhaanaka faqinaa 'azaaban Naar)

অনুবাদ -

এরা সেইসব লোক, যারা দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে [435], এবং আসমান ও পৃথিবীর সৃষ্টির বিষয়ে চিন্তা করে [436], (এবং বলে:) হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি এসব অর্থহীনভাবে সৃষ্টি করেননি। আপনি পবিত্র! আমাদের দোজখের শাস্তি থেকে রক্ষা করুন [437]।

সূরা আলে ইমরান আয়াত 191 তাফসীর




📖 সূরা আল ইমরান - আয়াত ১৯১ এর ব্যাখ্যা

 

✅ [435] প্রকৃত বুদ্ধিমত্তা হলো আল্লাহকে স্মরণ করা

এই আয়াতে তাদের প্রশংসা করা হয়েছে যারা নিয়মিত আল্লাহর জিকিরে লিপ্ত। এটি প্রমাণ করে, প্রকৃত জ্ঞান ও বুদ্ধিমত্তা শুধু পাণ্ডিত্য বা দুনিয়াবি সফলতায় নয়, বরং—

  • আল্লাহর সাথে অন্তরের সংযোগে,
  • জিকিরে নিমগ্ন জীবনে,
  • এবং আত্মিক সফলতাকে প্রাধান্য দেওয়ায়।
    যদি কেউ দুনিয়াবি দৃষ্টিতে সফল না-ও হয়, কিন্তু আল্লাহকে স্মরণে রাখে, তবে সে আল্লাহর কাছে প্রকৃত বুদ্ধিমান গণ্য হয়।

✅ [436] সব অবস্থায় জিকির করা

আয়াতে তিনটি অবস্থায় জিকিরের কথা এসেছে: দাঁড়িয়ে, বসে ও শুয়ে। এর দ্বারা শিক্ষা পাওয়া যায় যে, জিকির সব অবস্থায়ই করা উচিত—স্বাস্থ্য বা অসুস্থতা, চলাফেরা বা বিশ্রাম, যেকোনো সময় ও অবস্থায়।

জিকিরের জন্য ওজু আবশ্যক নয়, যা আল্লাহর ইবাদতের সহজলভ্যতা প্রমাণ করে। এমনকি অনেক মানুষ মৃত্যুর সময়ও ওজু ছাড়া কালিমা পাঠ করে, যা সারাজীবনের জিকিরের শক্তি নির্দেশ করে।

✅ [437] দোয়ার আদব ও প্রশংসার শিষ্টাচার

এই আয়াতে দেখা যায়, আল্লাহর নিকট কিছু চাওয়ার আগে এরা:

  • প্রথমে আল্লাহর পবিত্রতা ঘোষণা করে: “আপনি পবিত্র”,
  • তারপর সৃষ্টির উদ্দেশ্য স্বীকার করে: “আপনি এসব অর্থহীনভাবে সৃষ্টি করেননি”,
  • এরপর আন্তরিকভাবে আহ্বান করে: “হে আমাদের প্রতিপালক!”

এখান থেকে বোঝা যায়, দোয়ার আগে আল্লাহর প্রশংসা করা একটি সুন্নাত ও শিষ্টাচার। বারবার “রব্বানা” ও “সুবহানাকা” বলা রহমত লাভের উপায়। এরা দোজখ থেকে রক্ষা চায়—কারণ, গভীর চিন্তা-ভাবনার পরেও নম্রতা ও আখিরাতের ভয় জাগ্রত হওয়া আবশ্যক।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now