কুরআন - 2:284 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

284
لِّلَّهِ مَا فِي ٱلسَّمَٰوَٰتِ وَمَا فِي ٱلۡأَرۡضِۗ وَإِن تُبۡدُواْ مَا فِيٓ أَنفُسِكُمۡ أَوۡ تُخۡفُوهُ يُحَاسِبۡكُم بِهِ ٱللَّهُۖ فَيَغۡفِرُ لِمَن يَشَآءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَآءُۗ وَٱللَّهُ عَلَىٰ كُلِّ شَيۡءٖ قَدِيرٌ

Transliteration: (Lillaahi maa fissamaawaati wa maa fil ard; wa in tubdoo maa feee anfusikum aw tukhfoohu yuhaasibkum bihil laa; fayaghfiru li mai yashaaa'u wa yu'azzibu mai yashaaa'u;wallaahu 'alaa kulli shai in qadeer)

অনুবাদ -

আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে, সবই আল্লাহর [768]। তোমরা যা কিছু তোমাদের অন্তরে প্রকাশ করো অথবা গোপন রাখো [769], আল্লাহ তার হিসাব নিবেন। তারপর তিনি যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেবেন [770]। নিশ্চয়ই আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 284 তাফসীর




📖 সূরা আল-বাকারা – আয়াত ২৮৪-এর তাফসির

 

✅ [768] সকল কিছুর মালিক একমাত্র আল্লাহ

এই দুনিয়ায় আমরা যত কিছু দেখতে বা বুঝতে পারি — আকাশ, পৃথিবী, সৃষ্টি, শক্তি — সব কিছুর চূড়ান্ত মালিকানা শুধুই আল্লাহর।

মানুষের কাছে সাময়িক মালিকানা থাকতে পারে যেমন:

  • জমি বা বাড়ির মালিক হওয়া,
  • বাদশাহদের কর্তৃত্ব থাকা,
  • এমনকি রাসূলুল্লাহ ﷺ-কে বিশ্বজগতের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে — সবই আল্লাহর অনুমতিতে।

📌 তবে এগুলো সাময়িক ও উপহারস্বরূপ, আল্লাহর চূড়ান্ত মালিকানার বিপরীত নয়।

✅ [769] অন্তরের চিন্তা ও নিয়তের হিসাবও হবে

এই আয়াতে মানুষের অন্তরের ব্যাপার — অর্থাৎ, গোপন বা প্রকাশ্য চিন্তা, কল্পনা বা নিয়ত — সবকিছুর হিসাব হবে বলে জানানো হয়েছে।

👉 কিন্তু ইসলাম এর ব্যাখ্যা দিয়েছে স্পষ্টভাবে:

  • অজান্তে বা অপ্রত্যাশিত চিন্তা, হঠাৎ ভয়ের কল্পনা, বা কু-চিন্তা — ক্ষমাযোগ্য, এর শাস্তি নেই।
  • ইচ্ছাকৃত নিয়ত বা পরিকল্পনা — যদিও তা বাস্তবায়ন না হয় — তবুও শাস্তিযোগ্য।

📌 উদাহরণ:

  • কেউ ইচ্ছা করে ইসলাম ত্যাগ করার কথা ভাবে — তা শুধু নিয়ত হলেও কুফরি।
  • কেউ পাপ করার পরিকল্পনা করে — তা না করলেও পাপ গণ্য হবে।

এটা একটি প্রত্যয়, বাতিল নয় — যার দ্বারা আমাদের অন্তরের সচেতন নিয়ত কতটা গুরুতর, তা স্পষ্ট হয়।

✅ [770] আল্লাহর ইনসাফ – দয়া ও শাস্তির পূর্ণ ক্ষমতা

আয়াতের শেষাংশ জানায়:

  • আল্লাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন,
  • আর যাকে ইচ্ছা শাস্তি দেন — তাঁর ন্যায়বিচার ও হিকমতের ভিত্তিতে।

⚠️ এই অর্থ নয় যে, তিনি অন্যায়ভাবে কাউকে শাস্তি দেন। যেমন ভুল ব্যাখ্যা করেছিলেন দয়ানন্দ সরস্বতী ও অন্যান্যরা।

আল্লাহর রহমত ও শাস্তি — সবই ন্যায়ের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর জ্ঞান, দয়া ও ক্ষমতা সর্বত্র বিস্তৃত।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now