কুরআন - 2:285 সূরা আল-বাকারা অনুবাদ, লিপ্যন্তরণ এবং তাফসীর (তাফসীর).

285
ءَامَنَ ٱلرَّسُولُ بِمَآ أُنزِلَ إِلَيۡهِ مِن رَّبِّهِۦ وَٱلۡمُؤۡمِنُونَۚ كُلٌّ ءَامَنَ بِٱللَّهِ وَمَلَـٰٓئِكَتِهِۦ وَكُتُبِهِۦ وَرُسُلِهِۦ لَا نُفَرِّقُ بَيۡنَ أَحَدٖ مِّن رُّسُلِهِۦۚ وَقَالُواْ سَمِعۡنَا وَأَطَعۡنَاۖ غُفۡرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيۡكَ ٱلۡمَصِيرُ

Transliteration: (Aamanar-Rasoolu bimaaa unzila ilaihi mir-Rabbihee walmu'minoon; kullun aamana billaahi wa Malaaa'ikathihee wa Kutubhihee wa Rusulihee laa nufarriqu baina ahadim-mir-Rusulih wa qaaloo sami'naa wa ata'naa ghufraanaka Rabbanaa wa ilaikal-maseer)

অনুবাদ -

রসূল বিশ্বাস করেন সে সমস্ত বিষয়ে যা তাঁর প্রতি তাঁর প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। এবং মুমিনরাও বিশ্বাস করে [771] আল্লাহর প্রতি, তাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, তাঁর কিতাবসমূহ ও রসূলগণের প্রতি। তারা বলে, আমরা তাঁর কোন রসূলের মধ্যে পার্থক্য করি না বিশ্বাসের ক্ষেত্রে। এবং তারা বলেছে [772], আমরা শুনেছি এবং মান্য করেছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আপনার ক্ষমা দিন, নিশ্চয়ই আপনারই দিকে প্রত্যাবর্তন।

সূরা আল-বাকারা আয়াত 285 তাফসীর




সূরা আল-বাকারা – আয়াত ২৮৫-এর তাফসির

 

✅ [771] নবী ও সাহাবাদের ঈমানের স্বতন্ত্র মর্যাদা

এই আয়াতে বোঝানো হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ ﷺ এবং সাহাবিগণ সকল বিষয়ে পূর্ণ ঈমান এনেছেন — তা কুরআন হোক অথবা ওহীর ভিত্তিতে প্রদত্ত হাদীস।

🔹 এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে আসে:

  • নবী ﷺ-এর ঈমান সকল ঈমানদারদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ, কারণ আমাদের ঈমান তাঁর মাধ্যমেই এসেছে।
  • এজন্যই এই আয়াতে প্রথমে নবী ﷺ-কে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে।
  • নবী ﷺ-এর ঈমান সাধারণ মুমিনদের মতো নয় — তিনি আল্লাহর সান্নিধ্যে ছিলেন, জান্নাত-জাহান্নাম দেখেছেন — যা সাধারণ মুমিনের কল্পনার বাইরে।
  • সাহাবিরা সত্যিকার ও পরিপূর্ণ ঈমানদার, আল্লাহ নিজেই তাঁদের ঈমানকে স্বীকৃতি দিয়েছেন।
  • নবী বলেন: “আমি আল্লাহর রসূল” — এটা তাঁর জন্য সত্য, কিন্তু কেউ সাধারণভাবে এমন বললে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।

📌 কুরআনে কোথাও নবীদের “মুমিনদের” মধ্যে গণ্য করা হয়নি — তাই এ আয়াতে নবী ﷺ-কে আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

✅ [772] সকল নবীতে ঈমান, মর্যাদায় পার্থক্য অস্বীকার নয়

"আমরা রসূলদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না" — এর অর্থ:

  • ইহুদি-খ্রিস্টানদের মতো আচরণ নয়, যারা কিছু নবীকে মানে, কিছুকে অস্বীকার করে।
  • আমরা সকল নবীর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস রাখি, কাউকেই বাদ দেই না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, সব নবীর মর্যাদা সমান।
🔹 আল্লাহ নিজেই বলেছেন:
"আমি রসূলদের একে অপরের উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছি।" (বাকারা ২:২৫৩)

এই আয়াত দুটি ভুল বিশ্বাসের বিপরীতে হুঁশিয়ারি দেয়:

  1. কেউ যদি বলে, কিছু নবী আদৌ নবী ছিলেন না — এটা কুফরি।
  2. কেউ যদি মির্জা গুলাম আহমদ বা অন্য ভণ্ডদের প্রকৃত নবীদের মতো মনে করে — সেটাও স্পষ্ট গোমরাহী।

এছাড়াও, ফেরেশতা ও আসমানী কিতাবসমূহ — এদের প্রতিও সমগ্রভাবে ঈমান আনা ফরজ, যদিও মর্যাদায় পার্থক্য থাকতে পারে।

🔎 সারসংক্ষেপ:

  • ঈমানের দিক থেকে সকল নবীকে মেনে নেওয়া আবশ্যক।
  • মর্যাদার পার্থক্য আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত, এবং সেটা মানা ঈমানের পরিপন্থী নয়।

Sign up for Newsletter

×

Download Our Quran App

For a faster and smoother experience,
install our mobile app now.

Download Now